ইয়াবা বন্ধে মিয়ানমার সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও যৌথ ইস্তেহার স্বাক্ষর হয়নি। দেশে ফিরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তের কথা জানাবে বলে জানিয়েছে সফরকারী মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল। মিয়ানমার-বাংলাদেশ ডিজি (মাদক) পর্যায়ে দুই দিনের বৈঠক শেষে গতকাল বুধবার শেষ হয়েছে। বৈঠক গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকাস্থ মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সফরকারী মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সদস্যদের হাজির হবার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা আসেননি।
বৈঠক সম্পর্কে মহাপরিচালক (মাদক) বজলুর রহমান বলেন, বৈঠক যথেষ্ট সফলই বলতে হবে। ২০১১ সালের পর তাদের (মিয়ানমারের) সঙ্গে বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। এ বৈঠকে সার্বিক বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। সফরকারী টিমও আমাদের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। আশাকরি এরপর প্রতিবছর অন্তত একবার দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে, যার ফলশ্রুতিতে মিয়ানমার হতে পাচার হয়ে আসা অবৈধ মাদক বিশেষ করে ইয়াবা উত্পাদন, পাচার ও পাচার কাজে জড়িত চক্রকে দমন করা সম্ভব হবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, দুই দিনব্যাপী বৈঠকে প্রথম দিন আলোচনা শেষে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ১৩ পৃষ্ঠার একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মিয়ানমারে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৩৯টি ইয়াবা কারখানা এবং সংশ্লিষ্টদের তালিকা। কথা ছিল বৈঠক শেষে তারা যৌথ ইস্তেহারে স্বাক্ষর করবে। কিন্তু গতকাল সফরকারী মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল ইস্তেহারে স্বাক্ষরের ব্যাপারে আপত্তি করেন। তারা জানিয়েছেন মিয়ানমারে পৌঁছে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
ঐ কর্মকর্তা আরো বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইয়াবা কারখানার তালিকা দেয়ার পর প্রথমে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে আলোচনা শেষে এরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা জানান, ইয়াবার কাঁচা মাল আসে চীন থেকে। এ জন্য তারা চীনের সঙ্গে আলোচনারও তাগিদ দেন। তারা আরো জানান, মিয়ানমার থেকে ইয়াবা বাংলাদেশে আসে, আবার বাংলাদেশ থেকেও প্রচুর পরিমাণ গাঁজা পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে।