ফলো অনের শংকায় বাংলাদেশ

 
 সাকিব আল হাসান সকালে পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ উল হককে আউট করে আশা জাগালেও মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই বিপাকে বাংলাদেশ। কেননা দিনের বাকি সময়ে বোলারদের মতোই হতাশ করেছেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরাও। শুধু হতাশই নয় পাকিস্তানের ৫৫৭ রানে ডিক্লেয়ার করা প্রথম ইনিংসের জবাবে মুশফিকুর রহিমের দল ১০৭ রানে পাচ উইকেট খুইয়ে এখন ফলো অনের শংকায়।
 
বাংলাদেশকে ফলো অন এড়াতে হলে মিরপুর টেস্টে আরো ২৫১ রান করতে হবে। ক্রীজে আছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান (১২)।
 
শুক্রবারে তৃতীয় দিনে ক্রীজে নেমে লড়াইয়ের অপেক্ষায় সৌম্য সরকার, শুভাগত হোম, তাইজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ শহীদ। এর মধ্যে শাহাদাত প্রথম দিনেই ডান হাটুতে আঘাত পাওয়ায় আজ তার ব্যাট হাতে নামার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
 
ওপেনার ইমরুল কায়েস অবশ্য গতকাল ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে জানিয়ে গেছেন আপাতত তাদের প্রথম লক্ষ্য ফলোঅন এড়ানো। তাছাড়া এখনো দ্বিতীয় ইনিংস আছে।
 
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘আগের টেস্টটা আমরা ব্যাকফুটে থেকে অনেক ভালো একটা জায়গায় গিয়েছিলাম। এই টেস্টে প্রথম ইনিংসে আমরা টপ অর্ডার ব্যর্থ হয়েছি, অসুবিধা নাই, পরের ইনিংস আছে। আমরা যদি থিতু হয়ে যাই, ম্যাচটা বাঁচানোর একটা চেষ্টা করবো।
 
বৃহস্পতিবার মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ ওভারে মুশফিকের আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে মূলত বাংলাদেশ দলের টপ অর্ডার প্রথম ইনিংসে একরকম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। যদিও স্বাগতিক দল এ টেস্টটিতে আট ব্যাটসম্যান নিয়ে পাকিস্তানের মোকাবেলায় নামে। কিন্তু স্থানীয় সমর্থকরা ভাবতেই পারেননি খুলনা টেস্টে ব্যাট হাতে অমন লড়াইয়ের পর মুশফিকের দল এভাবে রণে ভঙ্গ দেবে।
 
শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের ব্যাটিং অনুকুল উইকেটে পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানরা গত দুদিন স্বচ্ছন্দে ও খুশিমতো রান তুলেছেন। অথচ একই যাত্রায় দেখা গেল আগের টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান ওপেনার তামিম ইকবাল ইনিংসের প্রথম ওভারেই জুনায়েদ খানের বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়েন।
 
 ইমরুল কায়েস এ বিপর্যয় সামলে উঠে তৃতীয় ওভারে পেসার জুনায়েদকে চারবার বাউন্ডারি হাকান। এর মধ্যে তিনটি ছিল টানা। এর মধ্যে দিয়ে বোঝা গেল বাংলাদেশ দল শুরু থেকেই আক্রমণাত্নক মনোভাব নিয়ে মাঠে নেমেছিল।
 
এই আক্রমণাত্নক মনোভাবের মধ্যেই অফ স্টাম্পের বাইরে টানা বল করে মোমিনুলকে (১৩) আউট করেন জুনায়েদ খান। বলটি তার ব্যাটের নিচের কানা ছুইয়ে উইকেটরক্ষকের কাছে যায়।
 
এরপর পাকিস্তানি বোলাররা একে একে আউট করেন ইমরুল কায়েস (৩২), মাহমুদুল্লা রিয়াদ (২৮) ও সবশেষে মুশফিককে (১২)। পুরো সফরে এই প্রথম পাকিস্তানী বোলাররা যেন নিজেদের খুজে পেলেন। এর মধ্যে ইয়াসির শাহ গুগলিতে পরাস্ত করেন মুশফিককে।
অথচ দিনের দ্বিতীয় ওভারেই মিসবাহকে (৯) আউট করে সমর্থকদের উজ্জীবিত করেছিলেন সাকিব। আগের দিনের সংগ্রহ ৩২৩/১ নিয়ে খেলতে নেমে পাকিস্তান কেবল আর এক যোগ করেই অধিনায়ককে খুইয়েছিল। কিন্তু ওইটুকুই। এরপর আজহার আলির ডাবল ও আসাদ শফিকের সেঞ্চুরিতে ক্রমশই লড়াইয়ে পিছপা হতে থাকে বাংলাদেশ দল। আবারো ২০০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানরা।
 
আজহার আলি (২২৬) এই প্রথম তার টেস্ট ক্যারিয়ারে ডাবল সেঞ্চুরি হাকালেন। আসাদ শফিক করেন ১০৭ রান। তাতে পঞ্চম উইকেটে দুজনের পার্টনারশিপ দাড়ায় ২০৭ রানের। তারপরও চা বিরতির আগে ২৭ রানে চার উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের বোলাররা খেলায় ফেরার চেষ্টা চালিয়েছিল।
 
অফ স্পিনার শুভাগত হোম আজহার ও শফিককে পর পর দুই ওভারে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। লং অফে দুজনেরই ক্যাচ নেন মাহমুদুল্লা রিয়াদ। লেগ স্পিনার তাইজুল ইসলাম ওয়াহাব রিয়াজকে আউট করার পর চা বিরতির ঠিক আগের বলে সাজঘরে ফেরত পাঠান ইয়াসির শাহকেও। বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে তাইজুল তিনটি এবং মোহাম্মদ শহিদ ও শুভাগত হোম দুটি করে উইকেট নেন।