বাংলাদেশ আজ এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে চীনের মুখোমুখি হবে। চীন ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে। কারণ গোল গড়ে এগিয়ে তারা। অপরদিকে বাংলাদেশকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হলে জিততে হবে। খেলা শুরু হবে বেলা আড়াইটায়।
এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে বাংলাদেশ এখন এশিয়ার সেরা ছয় দেশের একটি। বাংলাদেশের মেয়েরা মিয়ানমারের মাঠে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে দেশকে আকাশ ছোঁয়া উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। মারিয়া মান্ডা, তহুরা, আঁখি খাতুন, নীলা, রূপনা চাকমা, নাজমারা এখন এশিয়ার ফুটবলে সেরাদের জায়গায় তুলে এনেছেন বাংলাদেশকে। এরই সুবাদে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই খেলবে বাংলাদেশ।
এ সাফল্য এবারই প্রথম নয়। ২০১৭ সালেও বাংলাদেশ এশিয়ার সেরাদের তালিকায় ঠাঁই করে নিয়েছিল। আগেরবারের চেয়ে এবারের গুরুত্ব বেশি। কারণ এবার আরো কঠিন লড়াই হয়েছে। আগের বার ২৪ দল খেলেছিল। বাংলাদেশ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সরাসরি চূড়ান্ত বাছাইয়ে অংশগ্রহণ করেছিল এবং অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ ফুটবল চূড়ান্ত বাছাইয়ে খেলেছিল।
বাংলাদেশকে এবার দুই দফায় বাছাই খেলতে হলো। কারণ ৩০ দেশ বাছাইয়ে অংশ নেয়। দেশ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশকে দুই দফায় খেলতে হচ্ছে। প্রথম দফায় গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় খেলেছিল। সেবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় দফায় গ্রুপ পর্বের বাছাইয়ে মিয়ানমারে যায় মেয়েদের দলটি। এখানেও বাংলাদেশ দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে চূড়ান্ত পর্বে উঠল।
অথচ বাংলাদেশের জন্য এটা কঠিন যুদ্ধই ছিল। কারণ ফিলিপাইন ছিল অচেনা, মিয়ানমার সম্পর্কে জানলেও তারা ছিল শক্তিশালী। আর চীন গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ফেভারিট সেটা সবার জানা ছিল। বাংলাদেশের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন টার্গেট করেছিলেন ‘বি’ গ্রুপে তিন ম্যাচের মধ্যে দুই ম্যাচ জিতলে দ্বিতীয় পর্বে যাওয়ার সুযোগ এসে যাবে। সেটি হয়ে গেছে। এখন গ্রুপের ফেভারিট চীনের বিপক্ষে লড়াই।
বাংলাদেশের কোচিং স্টাফরা ভালো করেই জানেন চীনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে পেরে উঠা যাবে না। চীনকে হারানোর কোনো পরিকল্পনার কথা বলেওনি বাংলাদেশ দল। কারণ বাস্তবতা মেনে নিয়েই লড়াইয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন কোচ ছোটন। তবে আশার কথা হচ্ছে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করায় দলের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
স্বাগতিক মিয়ানমারকে তাদের মাঠে ১-০ গোলে হারানোর ঘটনা বাংলার মেয়েদের উজ্জীবিত করছে। বাড়তি প্রেরণা দিচ্ছে। মিয়ানমারকে হারানো কঠিন ছিল। সেটি সম্ভব হয়েছে। এর আগের ম্যাচে ফিলিপাইনকে ১০-০ গোলে হারিয়েছে তারা।
কোচ আগেই জানিয়েছিলেন চীনের বিপক্ষে লড়াই করা কঠিন। কারণ চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের খুব বেশি অভিজ্ঞতা নেই। যেটুকু রয়েছে সেটা প্রীতি ম্যাচ খেলার সামান্য অভিজ্ঞতা। প্রীতি ম্যাচে যাদের সঙ্গে খেলেছিল সেই খেলোয়াড়দের অনেকে মিয়ানমারে আসেনি।
বাংলাদেশ দল চীনা বিপক্ষ সম্পর্কে যতটুকু জানে তা শুধু মিয়ানমারে তাদের খেলা দেখে নেওয়া ধারণা। চীন গ্রুপ পর্বে ৫-০ গোলে মিয়ানমারকে এবং ৭-০ গোলে ফিলিপাইনাকে হারায়। গ্রুপ হতে ফিলিপাইন ও মিয়ানমারের বিদায়ে বাংলাদেশ ও চীন চূড়ান্ত পর্বে উঠে।