সাভার উপজেলার প্রতিটি সড়ক ও মহাসড়ক ধুলার কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে সবসময়। যত্রতত্র সড়কের পাশে ইট, বালু, পাথরসহ নির্মাণ সামগ্রী রাখার কারণে ধীরে ধীরে রাস্তাগুলো ধুলাবালিতে ঢেকে যায় এবং বাতাসে সেই ধুলা ছড়িয়ে পড়ে। এত ধুলার কারণে শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। পথচারী, যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধদের। ধুলার সঙ্গে নানারকম ক্ষতিকর জীবাণুও শরীরে প্রবেশ করছে। নোংরা, দূষিত ধুলা শরীরে এসে পড়ায় চর্মরোগের প্রকোপও বাড়ছে। চোখের নানা সমস্যাতেও ভুগছে অনেকে। এত সমস্যা সত্ত্বেও পৌর কর্তৃপক্ষ ও সড়ক বিভাগ সড়কে ধুলাবালির আধিক্য কমাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।
ঢাকা শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার বায়ুদূষণের মাত্রা ও এর উত্স চিহ্নিত করে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ইতিপূর্বে পরিবেশ অধিদফতর গবেষণা প্রতিষ্ঠান নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট ফর এয়ার রিসার্চ (এনআইএলইউ) এর সহায়তায় একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে। উক্ত গবেষণা রিপোর্টের বরাত দিয়ে তত্কালীন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী বর্তমান পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সংসদে জানিয়েছিলেন, শুষ্ক মৌসুমে ঢাকা শহরের ধূলি দূষণের (পিএম ১০) মাত্রা অত্যধিক (সর্বোচ্চ ৪৯৯ ইউজিএম/এম ৩) যা পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭ এর মানমাত্রা (সর্বোচ্চ ১৫০ ইউজিএম/এম ৩) অপেক্ষা বেশি। তিনি আরো জানান যে, গবেষণার ফলাফল মোতাবেক ঢাকা শহরের ধূলি দূষণের অন্যতম উত্স হলো ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিদ্যমান ইটভাটা (শতকরা ৫৮ ভাগ), খোলা অবস্থায় নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা ও খোলা অবস্থায় নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা (শতকরা ১৮ ভাগ) ও যানবাহন (শতকরা ১০ ভাগ) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সাভার উপজেলার প্রতিটি সড়কই ধুলায় একাকার। রাস্তার সংস্কার কাজ কিংবা রাস্তার পাশে ভবন নির্মাণের জন্য ইট, বালু, খোয়াসহ সকল নির্মাণ সামগ্রীই রাস্তার পাশে খোলা অবস্থায় ফেলে রাখতে দেখা যায়। যানবাহন চলাচলের সময় ও হালকা বাতাসে ধীরে ধীরে সেগুলো রাস্তার উপর ছড়িয়ে পড়ে। আবার ট্রাকে বালু পরিবহনের সময় বালু ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখার নিয়ম থাকলেও অনেক ট্রাক চালকই তা মানছেন না। ফলে চলন্ত ট্রাক থেকে বালু বাতাসে উড়ে গিয়ে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে। সেই ধুলাবালি পুরো এলাকার বাতাসে মিশে যায়। রাস্তা ও আশেপাশের লোকজনের চোখে মুখে বালু এসে পড়ে। ধুলার আধিক্যে এক অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেকেই ধুলাবালু থেকে বাঁচতে মুখে মাস্ক ও রুমাল ব্যবহার করছেন।
সাভারের সড়ক, মহাসড়কের আশপাশের বাড়িঘর, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, গাছপালা সবই ধুলায় ছেয়ে গেছে। একটু জোরে বাতাস বইলে ধুলার কারণে কিছু দেখা যায় না। এতে বেশি সমস্যায় পড়ছেন মোটর সাইকেল, রিকশা ও বাস চালকরা। ধুলাবালির কারণে সামনে দেখতে অসুবিধা হওয়ায় প্রায়ই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক ও রাস্তার পাশে হোটেল রেস্তোরাঁ থাকায় প্রতিনিয়ত ধুলাবালি উড়ে গিয়ে খাবারের উপর পড়ছে। এতে খাবারে মান নষ্টসহ তাতে রোগ জীবাণু প্রবেশ করছে। সাভার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম সিকদার বলেন, সড়কে ধুলাবালুর কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বাইরে বের হলেই পোশাক ধুলাবালিতে ময়লা হয়ে পরিধানের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তাছাড়া চোখে মুখে ধুলা বালু ঢুকছে প্রতিনিয়ত।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আমজাদুল হক বলেন, ধুলার সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ ও জীবাণু মিশে গিয়ে খাদ্যদ্রব্যে কিংবা নাকমুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অপরদিকে ধুলাবালি চোখে গিয়েও চোখের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।