মোট ২৪টি চুক্তি সই করে নতুন মাত্রা পেল ভারত-চীন সম্পর্কে। গতকাল শুক্রবার মোট ১ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি সই করে রেকর্ড করল দুই দেশ। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, রেল ও বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস। এর সঙ্গে রয়েছে নানা চুক্তি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চীন সফরের দ্বিতীয় দিনেই এল এই সাফল্য। চুক্তি সই করার পর চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে যুগ্ম সাংবাদিক বৈঠকে মোদী বলেন, ‘এই সম্পর্ক সুদৃঢ় করা আমাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব।’
মোদী আরও বলেন, ‘আমরা কিছু প্রাদেশিক সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেছি। পারস্পরিক বিশ্বাস আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। ভিসা সমস্যা ও সীমান্তের নদী নিয়েও কথা এগিয়েছে। তিনি জানান, অন্যান্য চুক্তির মধ্যে খনিজ ও খনি খাত, মহাশূন্য, পর্যটন, বাণিজ্য, কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে। এ ছাড়া উভয় দেশ অতিরিক্ত কনস্যুলেট জেনারেল ও চীন-ভারত থিঙ্ক ট্যাংক ফোরাম প্রতিষ্ঠার চুক্তিও করেছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর গতকাল এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘দুই দেশের এই সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করতে আমাদের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজার রাখতে সব ধরনের প্রচেষ্টা গ্রহণের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা আমরা পুনর্ব্যক্ত করেছি। একে অপরের স্বার্থের প্রতি আমাদের সংবেদনশীল হতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু প্রাদেশিক সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেছি। পারস্পরিক বিশ্বাস আরো শক্তিশালী করা এবং সতর্কতার সঙ্গে আমাদের মধ্যকার সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’
দুই দেশের অংশীদারিত্বের পূর্ণাঙ্গ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপদান করা থেকে উভয় দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে এমন কিছু বিষয়ে চীনের কৌশল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।
মোদী আরও বলেন, ‘আমি ভিসা নীতি ও আন্তঃসীমান্ত নদী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি কামনা করেছি এবং আমাদের আঞ্চলিক কিছু উদ্বেগের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’
চীন সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে চীনের প্রধানমন্ত্রী গ্রেট হল অব পিপলে মোদীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। পরে চীনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ।