নবাবগঞ্জে ২ যুবলীগ নেতাসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুদ রানা (৩৫)সহ তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আহত অন্যরা হলেন— ওই ইউনিয়নের যুবলীগের সহ-সভাপতি নূর ইসলাম (৩৫) ও তার ছোটভাই কামাল (২৬)। রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বান্দুরা ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত যুবলীগ নেতা মাসুদ রানা উপজেলা হাসনাবাদ এলাকার মৃত করম আলীর ছেলে। নূর ইসলাম ও কামাল একই এলাকার শেখ রহিমের ছেলে। পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে নূর ইসলাম ছোটভাই কামালকে সাথে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একই এলাকার নাহিদ, ইমরান, ইখতিয়ার ও জিয়া মেম্বারসহ ১০/১২ জন ধারাল অস্ত্র ও টেঁটা নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা কামালকে কোপ দেয় এবং নূর ইসলামকে টেঁটাবিদ্ধ করে। তাদের চিত্কার শুনে মাসুদ রানা ঘটনাস্থলে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকেও এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তাদের চিত্কার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।  রাতেই আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তিন জনকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে চিকিত্সা শেষে সোমবার সকালে তাদের নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।  

যুবলীগ নেতা মাসুদ রানা বলেন, বাইরে হৈচৈ শুনে ঘর থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে তারা আমার উপর হামলা চালায়। তারা কি কারণে আমার উপর হামলা করলো আমি বুঝতে পারলাম না।

আহত নূর ইসলাম জানান, মাস দুয়েক আগে তাদের ২টি ছাগল চুরি হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে সন্দেহ করে তারা থানা পুলিশ ও এলাকার নেতাদের জানান এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়। এর জের ধরে রবিবার রাতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে নূর ইসলাম জানান।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জিয়া মেম্বার বলেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম না। অথচ হামলার ব্যাপারে আমাকে জড়ানো হয়েছে। তবে আমার ভাইব্রেদাররা এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে।’ মাদক ব্যবসার বিষয়ে বলেন, এগুলো সব মিথ্যা অপবাদ ছাড়া আর কিছুই না। নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে । জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।