বিজিএমইএতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ফেরার পথে হামলা!

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র নির্বাচনে গতকাল শনিবার ছিল মনোনয়পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এদিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ফেরার পথে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্বাধীনতা পরিষদ নামে একটি প্যানেলের নেতারা। তারা জানান, বিজিএমইএ ভবনের চতুর্থ চলায় নির্বাচন কমিশনে মনোনয়পত্র জমা দেওয়ার পর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এছাড়া মনোনয়ন জমাদানের প্রাপ্তি স্বীকারপত্রও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে গতকাল বিকালে কাওরানবাজারে ডিজাইন এন্ড সোর্স গার্মেন্টস কারখানার সামনে মানববন্ধন করেছে স্বাধীনতা পরিষদ। মানববন্ধনে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

স্বাধীনতা পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিজাইন এন্ড সোর্স লিমিটেডের প্রধান জাহাঙ্গীর আলম। গতকাল মানববন্ধন শেষে ইত্তেফাককে তিনি বলেন, গতকাল প্রথম দফায় আমরা ১৯ জন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছি। জমা দেওয়ার পর আমরা অনেকেই চলে এসেছি। তবে একটি গ্রুপ অপেক্ষা করছিল মনোনয়নের প্রাপ্তি স্বীকার পত্রের জন্য। প্রাপ্তি স্বীকার পত্র নিয়ে বের হওয়ার পর বিজিএমইএ ভবনের চার তলায়ই পৌনে ১১টার দিকে আমাদের লোকজনের উপর হামলা চালায়। হামলার পর আমরা মানববন্ধন করেছি এবং থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করবো। তবে আমাদের মনোনয়ন ফরম জমা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা জানিয়েছেন।

স্বাধীনতা পরিষদের পক্ষ থেকে এ হামলার জন্য আহাদ আনসারি, আমজাদ হোসেন, ফিরোজ ও লিটন নামে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে  বেশকিছু অচেনা মুখও ছিল। অবশ্য যোগাযোগ করা হলে আহাদ আসনারি কোনো হামলার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এসব ভুয়া কথা। মিথ্যা কথা। কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

অন্যদিকে বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, কোনো হামলার ঘটনা আমার জানা নেই। কেউ কোনো অভিযোগও করেনি। আমি বেলা ১১টা থেকে বিজিএমইএ অফিসে ছিলাম। শুধু সাংবাদিকদের কাছেই এ হামলার অভিযোগের কথা শুনেছি।

আগামী ৬ এপ্রিল বিজিএমইএ’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অতীতে নির্বাচনের মাধ্যমে বিজিএমইএ’র নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়ে আসলেও সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটি সমঝোতায় গঠিত হয়। এবারো সমঝোতার মাধ্যমেই নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। তবে সমঝোতার বদলে নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে স্বাধীনতা পরিষদ। এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে গতকাল ওই প্যানেলের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। এর আগে গত প্রায় দেড় মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আলমের কিছু বক্তব্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বিজিএমইএ’র বর্তমান নেতাদের মধ্যে। এ নিয়ে বিজিএমইএ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার একটি উদ্যোগও চলমান রয়েছে।