সারাদেশের উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখানো পথ অনুসরণ করেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন সারাদেশে দৃশ্যমান। অনেকে বিস্মিত হয়ে বলেন, এতো অল্প সময়ে কিভাবে দেশকে উন্নত করতে পারলাম!” গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)’র ৫৯তম কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, জনগণ ও দেশের প্রতি আমাদের একটা রাজনৈতিক কমিটমেন্ট থাকতে হবে। দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করার যে ওয়াদা করেছি আমরা, সেটা রক্ষা করার চিন্তা থাকতে হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ প্রতিহত করতে পারবে না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যোগযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছি। ইতিমধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। ইনশাল্লাহ আমরা বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা এবং দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। জলাধার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ঢাকা শহরে ১৯৫৪ সাল থেকে বসবাস করি। তখন যত খাল ছিল, পুকুর ছিল, এখন খুঁজলে তা পাওয়া যায় না। যে কোন একটা বিল্ডিং করতে গেলে যেখানে পুকুর আছে, সেই জায়গাটাই আগে বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু আগুন লাগলে আর পানি পাওয়া যায় না।’ তিনি বলেন,  ‘ কয়েকদিন আগেও দেখেছেন চকবাজারে যখন আগুন লাগলো, তখন পানির জন্য হাহাকার। জেলখানার পুকুর থেকে, আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংকি থেকে, ওয়াসা থেকে পানি সাপ্লাই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঢাকা শহরে তো এই পানির অভাব হওয়ার কথা ছিল না।’ উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার সময় জলাধার সংরক্ষণের দিকে গুরুত্ব দিতে প্রকৌশলীদের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সভ্যতা গড়ে ওঠে নদীর তীর ধরে। কাজেই নদীকে আমাদের বাঁচাতে হবে। খাল-বিল বাঁচাতে হবে। জলাধারগুলো বাঁচাতে হবে। একটা জলাধার যেমন পরিবেশ সুন্দর রাখে, আবার দুর্ঘটনার সময় কাজে লাগে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নির্দেশ দিয়েছি আমরা যে হাউজিং করছি, সেখানের প্রত্যেকটি জায়গায় জলাধার থাকতে হবে। কোথাও জলাধার নষ্ট করা যাবে না। জলবায়ুর কারণে আমাদের দেশে প্রচুর বৃষ্টি হয়। এই বৃষ্টির পানিগুলো কোথায় যাবে? শুধুমাত্র আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনেজ দিয়ে তো সব পানি যেতে পারে না। তাছাড়া আমাদের বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ। ভূগর্ভস্থ পানি আমাদের যত কমবে, ভূমিকম্পের সম্ভাবনা আরও বেশি দেখা দেবে।’ এসময় প্রতিটি ছোট-বড় নদী ড্রেনেজ করে নাব্য বাড়ানোর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দেশে যত পুকুর-খাল আছে, সেগুলোও খনন করে পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা সরকারের  রয়েছে বলে জানান তিনি।

দেশের প্রতিটি মহাসড়কের পাশে আলাদা সার্ভিস রোড করতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় যোগাযোগ ও স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য আলাদা রাস্তা করা হলে দুর্ঘটনা কমবে, যাতায়াতও দ্রুত হবে। তিনি বলেন,  ইতিমধ্যে আমরা স্যাটেলাইট উেক্ষপণ করেছি। আমি মনে করি ভবিষ্যতে আমরা হয়তো স্পেস (মহাকাশ) নিয়ে গবেষণা করতে পারবো। আমরা কারো কাছ থেকে পিছিয়ে থাকতে চাই না।

প্রকৌশলীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যেসব স্থাপনা নির্মাণ করবেন, তা যেন দেশের জলবায়ু উপযোগী হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে গবেষণা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৌশলী এবং বিজ্ঞানীদের গবেষণার জন্য আমরা আলাদা আলাদা বরাদ্দ রাখছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে বুলেট ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা করছি। সারাদেশেই রেলযোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে শিল্পায়ন যেন দ্রুত হয় সেজন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প গড়ে তোলার সময় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, কৃষি জমি যাতে নষ্ট না হয়, জলাধারের যেন ক্ষতি না হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে কনভেনশনের ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন ইঞ্জিনিয়ার্সের শিল্পিরা। এরপর কনভেশনের থিম সং পরিবেশিত হয়। আইইবির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ, আইইবির ঢাকা সেন্টারের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ওয়ালিউল্লাহ সিকদার, আইইবি ঢাকা কেন্দ্রে সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন শিপলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে তিন জনকে প্রকৌশলী স্বর্ণ পদক প্রদান করা হয়।