কানাডায় ইমিগ্র্যান্টদের নাগরিকত্ব লাভের হার নাটকীয়ভাবে কমেছে

কানাডায় নাগরিকত্ব লাভের হার নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।  টরস্টার নিউজ সার্ভিসের তথ্য মোতাবেক, শতকরা ৭৯ ভাগ থেকে নেমে তা দাঁড়িয়েছে শতকরা ২৬ ভাগে। গত ২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে যারা কানাডায় এসেছেন তাদের ক্ষেত্রে এই ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। শুধু তাই নয়; ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ যে কোন সময় কানাডা থেকে বহিস্কারও করতে পারে। সেই জন্য কর্তৃপক্ষ কিছু আইন তৈরি করতে যাচ্ছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক এন্ড্রু গ্রিফিথ বলেন, নাগরিকত্ব লাভের জন্য বর্তমান ক্ষমতাসীন দল প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ কর্তৃক ‘সিটিজেনশীপ টেস্ট’ ব্যবস্থায় কঠিন নিয়ম প্রবর্তণ করায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
 
নিয়মগুলো হলো:
ক) ২০১০ সাল থেকে কানাডার নাগরিকত্ব লাভের জন্য নতুন আইন অনুযায়ী আবেদনকারীকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে শতকরা ৭৫ ভাগ নম্বর পেতে হবে। আগে এটি ছিল শতরা ৬০ ভাগ। পরীক্ষায় কানাডার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে আবেদনকারীদের জ্ঞান যাচাই করা হয়। 
সিটিজেনশীপ এন্ড ইমিগ্রেশন বিভাগের মুখপাত্র জোয়াইন নিডো বলেন, নাগরিকত্ব লাভের পরীক্ষা সকল আবেদনকারীর জন্যই সমান এবং পাশের গড় হার শতকরা ৮৫। তার অর্থ হলো, নাগরিকত্ব লাভের পরীক্ষা খুব সহজ নয় আবার খুব কঠিনও নয়। 
 
খ) নাগরিকত্ব লাভের জন্য আবেদনকারীদের ফি-ও দুই দফা বাড়ানো হয়েছে। যা স্বল্প আয়ের ইমিগ্র্যান্টদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে সিটিজেনশিপ প্রসেসিং ফি জনপ্রতি (প্রাপ্তবয়স্ক) ১০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০০ ডলার করা হয়। ডিসেম্বরে তা আরেক দফা বাড়িয়ে ৫৩০ ডলার করা হয়। পরীক্ষা পাসের পর আবার আরও ১০০ ডলার দিতে হচ্ছে ‘রাইট অব সিটিজেনশীপ’ ফি এর নামে।
 
গ) কানাডায় ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে অবস্থানের মেয়াদও বৃদ্ধি করা হয়েছে নাগরিকত্ব লাভ করার জন্য। আগে নিয়ম ছিল ৪ বছরের মধ্যে ৩ বছর থাকতে হবে। এখন নাগরিকত্ব লাভ করতে হলে ৬ বছরের মধ্যে অন্তত ৪ বছর থাকতে হবে। 
 
ঘ) যাদের বয়স ৫৫ বা তার বেশী, নাগরিকত্ব লাভের জন্য তাদেরকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হতো না। কিন্তু সেই আইনটিও পরিবর্তন করা হয়েছে। যা জুন থেকে কার্যকর করা হবে। নতুন নিয়মে যাদের বয়স ৬৫ বা তারো বেশী, তাদেরকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে না।
 
ঙ) টরন্টোর পাক্ষিক প্রবাসীকন্ঠ থেকে আরো জানা যায়, ইকোস গবেষণার এক জরিপ অনযায়ী কানাডিয়ানরা বর্ণবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। প্রতি দশজন কানাডিয়ানের মধ্যে চারজন অভিবাসীদের আসার বিপক্ষে। সার্বিকভাবে ৪১ শতাংশ মানুষ তাই মনে করেন। আর এদের মধ্যে ৫১ শতাংশ সরকারী দল রক্ষণশীল দলের, ৩৫ শতাংশ এনডিপির এবং ৩২ শতাংশ লিবারেল দলের সমর্থক।