চট্টগ্রামে গ্রামে গ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকট প্রকট হয়েছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীকে খাবারের বিশুদ্ধ পানির খোঁজে ছুটতে হচ্ছে মাইলের পর মাইল। ব্যক্তি উদ্যোগে নলকূপ বসানো হলেও কম গভীতার কারণে পান করার উপযোগী পানি মিলছে না। অনেক এলাকার মানুষ চড়া দামে খাবার পানি কিনে খাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে রোডের পূর্ব পাশে কোনো নলকূপ বসানো যাচ্ছে না। কর্ণফুলি উপজেলা ও পটিয়া উপজেলার কয়েক ইউনিয়নে নলকূপ থেকে খাবার পানি মিলছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল স্থাপিত ৬৮ হাজার ৯০০টি নলকূপের মধ্যে ৬ হাজার ৩৮৯টি নলকূপ অকেজো অবস্থায় রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় রিংওয়েল বসানোর মাধ্যমে পানি সংকট নিরসনের চেষ্টা চালাচ্ছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বেপরোয়া ভাবে নলকূপ বসিয়ে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে পানির স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছে। পান করার উপযোগী পানি পেতে অনেক গভীরে যেতে হচ্ছে।
জানা যায়, সরকারি ভাবে প্রতিবছর চট্টগ্রাম জেলায় সহস াধিক গভীর নলকূপ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব নলকূপের মধ্যে ৫০ শতাংশ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ৫০ শতাংশ স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বরাদ্দ প্রদানের সরকারি নীতিমালা রয়েছে। তবে বরাদ্দের ক্ষেত্রে এই নীতিমালা লংঘনের অভিযোগ রয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে এসব নলকূপ বরাদ্দের নিয়ম থাকলেও তাদের ভাগ্যে তা জোটে না।
পটিয়া ও কর্ণফুলি উপজেলায় পানির স্তর অস্বাভাবিক ভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। কর্ণফুলি উপজেলায় নলকূপ বসাতে গিয়ে অতিমাত্রায় আর্সেনিক ও লবণাক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এখানে নলকূপ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। হাবিলাইশদ্বীপসহ কয়েক ইউনিয়নে ১ হাজার থেকে ১২শ ফুট নিচে গিয়ে পর্যাপ্ত পানি মিলছে না। শিকলবাহা ও জুলধা ইউনিয়নে পানি না পাওয়ায় নলকূপ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। এই দুই জায়গায় গড়ে ওঠা বৃহত্ শিল্প কারখানাগুলোতে উচ্চ ক্ষমতার নলকূপ বসানো হয়েছে। ফলে কয়েক বছর আগে স্থাপিত নলকূপগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে বলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পটিয়া উপজেলায় কর্মরত জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী উত্তম কুমার মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, পটিয়াতে গত ৫ বছরে ৩০ থেকে ৪০ ফুট পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। কয়েক স্থানে অতিমাত্রায় আর্সেনিক ও লবণাক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট গভীরে শ্যালো নলকূপ গুলো অকেজো হয়ে পড়ছে।’ এব্যাপারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন রায় ইত্তেফাককে বলেন, ‘সরকার নলকূপের পরিবর্তে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে পুকুর খননের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রামে সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’