শিলংয়ে আটক অবস্থায় চিকিত্সাধীন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের বিচার হবে ভারতে প্রচলিত অবৈধ অভিবাসী আইনে। গতকাল শনিবার ভারত সরকার বিষয়টি জানিয়েছে। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ ডায়ালগে’র শেষদিন গতকাল দুপুরে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু একথা বলেছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সালাহউদ্দিনকে নিয়ে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। সালাহউদ্দিন আহমেদ যে ভারতে এসেছেন, অবৈধ অভিবাসী আইনেই এর বিচার হবে।
গত শুক্র ও শনিবার নয়াদিল্লিতে এ ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ভারতের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে শিলং অবস্থানরত বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি গতরাতে ইত্তেফাককে জানান, তারাও চান সালাহউদ্দিনের বিচার ভারতের প্রচলিত অবৈধ অভিবাসী আইনেই হোক। তিনি বলেন, আমরা এতোদিন এটাই চেয়েছিলাম। ভারত সরকারকে ধন্যবাদ। আমরা আশা করছি নিরপেক্ষ বিচার পাবো।
আইসিইউ থেকে সাধারণ বেডে সালাহউদ্দিন
এদিকে গতকাল মেঘালয় পুলিশের সূত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছে, মেঘালয়ের নর্থ ইস্টার্ন ইন্দিরা গান্ধী রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মেডিক্যাল সায়েন্সেস শিলং (নেগ্রিমস) হাসপাতালে সালাহউদ্দিনের মেডিক্যাল রিপোর্ট আজ রবিবার রিভিউ করা হবে। আগামীকাল সোমবার আদালতের জন্য তা ছাড়া হতে পারে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সালাহউদ্দিন আহমেদের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। গত বৃহস্পতিবার তার স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। গতকাল সকালে তাকে আনা হয় সাধারণ বেডে। এ দিন তার দুইটি শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে।
নেগ্রিমসের পরিচালক এ জি এহেনগার সাংবাদিকদের জানান, একজন চিকিত্সকের তত্ত্বাবধানে সালাহউদ্দিন আহমেদ ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। দুই-এক দিনের মধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়ার মতো অবস্থা হতে পারে।
তবে নেগ্রিমসের ভারপ্রাপ্ত সুপার ভাস্কর বর্গাইন বলেন, শারীরিক অবস্থার অবনতি না হলেও তার হূদরোগ ও মূত্রনালির সংক্রমণ রয়েছে। তিনি কিডনি ও ত্বকের সমস্যায়ও ভুগছেন। তাকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এসব সমস্যার কারণে আমার মনে হয়, তাকে আরো কয়েকটা দিন হাসপাতালে চিকিত্সকদের পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত।
জামিন শুনানি ২৯ মে, আরো তথ্য চায় আদালত
গতকাল শিলং টাইমসের ‘সালাহউদ্দিন ওয়াইফ মোভস বেইল অ্যাপ্লিকেশন’ শিরোনামে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিলংয়ের প্রথম শ্রেণির বিচারিক আদালতে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের জামিনের আবেদন দাখিলের পর আগামী ২৯ মে এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। আবেদনটি করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। শিলং টাইমসকে আদালতের একজন সরকারি কৌঁসুলি জানিয়েছেন, জামিন আবেদনে হাসিনা আহমেদ উল্লেখ করেন, তার স্বামী সালাহউদ্দিন চলতি বছরের ১০ মার্চ নিখোঁজ হন। সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অপহরণের অভিযোগে এফআইআর করতে গেলে পুলিশ তা নথিভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তিনি এ ঘটনায় দেশে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। আদালত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রতিমাসে সালাহউদ্দিনের ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি জানানোর নির্দেশ দেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ চিকিত্সাধীন থাকায় মেঘালয় পুলিশ প্রকৃতপক্ষে সালাহউদ্দিনের ঘটনার কোনো তদন্ত করতে পারেনি। এই অবস্থায় তার জামিন পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ওই সরকারি কৌঁসুলি। আবেদনে আরো বলা হয়েছে, সালাহউদ্দিন আহমদ গুরুতর অসুস্থ। সুস্থ হওয়ার জন্য বিদেশে উন্নত চিকিত্সার প্রয়োজন তার। সালাহউদ্দিনের পাসপোর্ট ও বিদেশে বিশেষ করে সিঙ্গাপুরে চিকিত্সা নেয়ার ভিসাও আবেদনের সঙ্গে আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। একজন কৌঁসুলি জানিয়েছেন, পরবর্তী শুনানির দিন শিলংয়ের নিম্ন আদালত এ ব্যাপারে আরো তথ্য দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। জামিন আবেদনের শুনানিতে সালাহউদ্দিনের আইনজীবী ছিলেন এস পি মহান্তো।
সন্তানদের সঙ্গে কথা বলতে আবেগাপ্লুত সালাহউদ্দিন
এদিকে গতকাল পুলিশ প্রহরায় চিকিত্সাধীন সালাহউদ্দিনের সঙ্গে তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ সকালে এবং বিকালে নেগ্রিমসে গিয়ে দেখা করেছেন। তার একজন আত্মীয় জানান, এ হাসপাতালে আসামিদের সঙ্গে ১০ মিনিটের বেশি কথা বলার নিয়ম নেই। সকালে সালাহউদ্দিন তার স্ত্রীর ফোন দিয়ে ঢাকায় থাকা তার সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সালাহউদ্দিন। সন্তানদেরকে মন দিয়ে লেখাপড়া করার তাগিদ দেন তিনি।