বিশ্ব জীববৈচিত্র্য দিবস ২০১৫

নতুন প্রজাতির প্রজাপতি আর ব্যাঙ বাংলাদেশে!

খোলা মাঠে, বাগানে কিংবা অনেক সময় রাস্তায় হাঁটার সময়েও আমাদের পাশে নানা রঙের, নানা বর্ণের, নানা প্রজাতির প্রজাপতির দেখা মেলে। কিন্তু আমাদের অনেকেরই হয়তো ধারণা নেই যে, আমাদের এই ছোট্ট দেশে কত প্রজাতির প্রজাপতি থাকতে পারে! অনেকেই হয়তো এখন মনে করছেন, এই রঙিন পতঙ্গ কত প্রজাতিরই বা আর হবে, খুব বেশি হলে ৪০, ৫০ কিংবা ১০০! শুনতে আশ্চর্য হলেও সত্য যে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৩২৬ প্রজাতির প্রজাপতির সন্ধান পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ‘বাটারফ্লাই বাংলাদেশ’ নামক এক প্রজাপতি প্রেমিকের দল কাপ্তাই, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম ভ্রমণে এমন ৭টি নতুন প্রজাতির প্রজাপতির সন্ধান পেয়েছেন! এই ভ্রমণে প্রজাপতি-গবেষক দলের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশের নামকরা তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। তারা দাবি করছেন, এগুলো এদেশে আগে কখনো দেখা যায়নি। এই তিন তরুণ গবেষকের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মূলত কাপ্তাই ও চট্টগ্রামে কাজ করার সময়ে তারা এই প্রজাপতির সন্ধান পান। এই তিন গবেষক হচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাওন চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাব্বির হুসাইন খান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইব্রাহিম আল হায়দার। তারা প্রত্যেকেই স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্র। এই নতুন আবিষ্কৃত প্রজাপতিগুলো হচ্ছে, Absent Ace, White Palm Bob, White Four Ring, Halpe wantana, Autumn Leaf, Karwar Swift ও Yellow Spotted Swift. প্রজাপতিগুলো শনাক্তকরণে সহায়তা করেছেন ‘বাটারফ্লাই বাংলাদেশ’-এর বিভিন্ন গবেষক, ভারতের পিটার স্মিয়াটেক, সিঙ্গাপুরের টি এল সিউ এবং সানি চির। গবেষকদের মতে, এসব প্রজাপতিগুলো খুব সহজেই একই রকম দেখতে অন্য প্রজাপতির সাথে মিশে থাকতে পারে।

 

আবিষ্কারের খাতায় আরও একটি নতুন প্রজাতির নাম লিপিবদ্ধ করলেন উভচর প্রাণী বিষয়ক বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি তরুণ বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সাজিদ আলী হাওলাদার বাংলাদেশের নীলফামারী থেকে মাইক্রোহাইলা নামক গণের আরেক প্রজাতির ব্যাঙের সন্ধান পেয়েছেন যা প্লস-ওয়ান নামক গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। নীলফামারীতে আবিষ্কৃত হওয়ায় সাজিদ এই ব্যাঙের নাম দিয়েছেন ‘মাইক্রোহাইলা নীলফামারিয়েনসিস’। নিঃসন্দেহে সাজিদের এই আবিষ্কার আরও একবার বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে বড় করে তুলে ধরল। প্রথম দেখাতে এদেরকে ১৭৯৯ সালে জার্মান প্রকৃতিবিদ স্নেইডার কর্তৃক আবিষ্কৃত Euphlyctis cyanophlyctis এর মতো মনে হলেও একটু ভালো করে খেয়াল করলে সূক্ষ্ম পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। শরীরের আকার-আকৃতি ও বাইরের গঠন একটু ভালো করে পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে, এরা হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রজাতি। এই নতুন প্রজাতির ব্যাঙের মাইটোকন্ড্রিয়াল জিনের সাথে Euphlyctis গণের অন্যান্য প্রজাতির জিনের মধ্যে শতকরা প্রায় ৫.৫ থেকে ১৮ ভাগ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। একটু গাঢ় রঙের ধূসর বাদামী ও সবুজ পিঠ, গোল ছোপ ছোপ দাগ এবং সাদা উদরই E. cyanophlyctis থেকে এদেরকে আলাদা করেছে। এছাড়াও অন্যদের থেকে এদের মিলনের পদ্ধতিও একটু ভিন্ন। আবিষ্কারক সাজিদ আলী হাওলাদার এই নতুন প্রজাতির ব্যাঙের নাম রেখেছেন Euphlyctis kalasgramensis. এদের খাবারের তালিকায় রয়েছে ছোট ছোট পোকা, ছোট শামুক, মাকড়সা, নানা ধরনের পতঙ্গ যেগুলো মূলত ফসলের ক্ষতি করে থাকে। আবিষ্কারকের মতে, পানি দূষণ এবং সচেতনতার অভাবের কারণে এদের সংখ্যা যথেষ্ট পরিমাণে কমে যেতে পারে।  উল্লেখ্য যে, ড. সাজিদ আলী হাওলাদার এর আগে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্র ছিলেন। অনার্স শেষ হওয়ার পরে মাস্টার্স শেষ করার আগেই তিনি ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার সুযোগ পান। ছোটবেলাতে তিনি কলসগ্রাম নামক গ্রামে বড় হয়েছেন। মাতৃভূমির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান রেখে তিনি নতুন আবিষ্কৃত ব্যাঙের প্রজাতির নাম এই গ্রামের নামেই করেছেন।