অস্কার জয়ী হলিউড চলচ্চিত্র 'এ বিউটিফুল মাইন্ড' যার জীবনী অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে সেই বিখ্যাত মার্কিন গণিতবিদ জন ন্যাশ ও তার স্ত্রী এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ট্যাক্সি দুর্ঘটনায় ন্যাশ(৮৬) ও তার স্ত্রী অ্যালিসিয়া (৮২) মারা যান।
গেম থিওরির জন্যে সুপরিচিত এই গণিতবিদ ১৯৯৪ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পান।
ছবিতে গণিতে জন ন্যাশের অবদান এবং সিজোফ্রেনিয়ার বিরুদ্ধে তার লড়াইকে 'এ বিউটিফুল মাইন্ড' ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে। ২০০১ সালে ছবিটি সেরা ছবিসহ আরো তিনটি ক্যাটাগরিতে অস্কার পেয়েছিল।
মৃত্যুর খবরে তার চরিত্রে অভিনয়কারী রাসেল ক্রো এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, 'আমি মর্মাহত। সমবেদনা জন, অ্যালিসিয়া ও তাদের পরিবারের প্রতি। সুন্দর মন ও সুন্দর হৃদয়ের এক চমৎকার যুগল তারা।'
পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনার সময়ে তারা গাড়ি থেকে ছিটকে পড়েন। সম্ভবত তারা সিট বেল্ট বাঁধেন নি। দুর্ঘটনায় ট্যাক্সি ড্রাইভার ও অপর একটি গাড়ির যাত্রী আহত হন।
ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ব্লুফিল্ডে জন্ম নেয়া ন্যাশ প্রথমে পিটসবার্গ ও পরে প্রিন্সটনে পড়াশুনা করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তার সুপারিশ পত্রে শুধু একটি লাইন লেখা ছিল, তা হল-‘দিস ম্যান ইজ এ জিনিয়াস।’
ন্যাশের বাবা ছিলেন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। মা ল্যাটিন ভাষার শিক্ষিকা। ছোটবেলা থেকেই ন্যাশ দারণ মেধাবী ছিলেন। একারণে সবাই তাকে সমীহ করে ‘বড়ো মাথা’ বলে ডাকতো।
ন্যাশ ১৯৫৭ সালে অ্যালিসিয়াকে বিয়ে করেন। এর আগেই তিনি গেম থিওরিতে উল্লেখযোগ্য কিছু প্রকাশনার কাজ করেন। কিন্তু একপর্যায়ে ন্যাশ সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হন। অনেকগুলো বছর তিনি প্রায় উন্মাদ ছিলেন। এ সময়ে স্ত্রী অ্যালিসিয়া তার চিকিৎসা চালিয়ে যান।
১৯৬২ সালে এ যুগলের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলেও তাদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল। আশির দশকে ন্যাশের অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে। ২০০১ সালে উভয়ে পুনরায় বিয়ে করেন। সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স