এর আগে এলজি, স্যামসাংয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাঁকানো ডিসপ্লের স্মার্টফোন তৈরি করে বাজারে এনেছে। এসব ডিসপ্লে বাঁকানো হলেও সেগুলো প্রকৃতপক্ষে নমনীয় নয়। এই ডিসপ্লেগুলোর অভ্যন্তরীণ উপদানগুলো নমনীয় না হওয়ার কারণেই মূলত এই ডিসপ্লের মাধ্যমে নমনীয় ডিভাইস তৈরি করা সম্ভব নয়।
ফলে এখনও পর্যন্ত নমনীয় ডিভাইসের জন্য উপযোগী প্রকৃত নমনীয় ডিসপ্লে দেখা যায়নি প্রযুক্তিবিশ্বে। এই সমস্যাটি নিয়ে কাজ করে সমাধান বের করেছে চীনের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। তারা মূলত তৈরি করেছেন এমন এক ধরনের কাগজ যা স্বচ্ছ, নমনীয় এবং একইসাথে আলোক-নিঃসরণের উপযোগী।
এই কাগজকে সরাসরি ডিসপ্লে হিসেবে ব্যবহার করা না গেলেও এই কাগজ ব্যবহার করেই বিভিন্ন ধরনের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের ডিসপ্লে তৈরি করা সম্ভব। এই ডিসপ্লে তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠ, ময়দা এবং কোয়ান্টাম ডট। এর মধ্যে কোয়ান্টাম ডটগুলোকে তৈরি করা হয়েছে জিংক এবং সেলিনিয়াম থেকে।
এর ফলেই এই কাগজ থেকে আলোর নিঃসরণ ঘটে থাকে। আবার এর উপাদানগুলোর কারণে প্রকৃতিগতভাবেই এই কাগজ নমনীয় হবে। ‘সাকশন-ফিলট্রেশন’ নামের একটি পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে এই কাগজ। এই কাগজ একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব, অন্যদিকে এর দ্বারা মানুষের শরীরেও কোনো ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না। সাধারণ তাপমাত্রায় এই কাগজ থেকে আলো নিঃসৃত হয় এবং একে বারবার মোড়ানো হলেও এতে কোনো প্রভাব পড়ে না। আবার সূর্যালোকে এই কাগজকে রাখা হলে তা সম্পূর্ণভাবে স্বচ্ছ হিসেবে আচরণ করে।
এর উদ্ভাবকরা বলছেন, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিবিশ্বে বৈচিত্র্যময় সব ধরনের ডিভাইস ও গ্যাজেট তৈরিতে এই কাগজরূপরী স্ক্রিন বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসার সম্ভাবনা রাখে। কেবল প্রচলিত ডিভাইস বা গ্যাজেটই নয়, প্রকাশনা শিল্পের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে এই স্বচ্ছ কাগজ বা স্ক্রিন। এমনকি নমনীয় গ্যাজেট বা ডিভাইস তৈরির ক্ষেত্রেও এটি সহায়তা করতে পারে বলে মন্তব্য তাদের।