চলুন এবার যাই মূল প্রসঙ্গে। ঢাকা থেকে রাতের গাড়িতে চড়ে সকালে গিয়ে নামলাম সিলেট শহরের হুমায়ুন চত্বরে। হোটেলে ফ্রেশ হয়ে চলে গেলাম মাইক্রোতে করে সোজা জৈন্তাপুর উপজেলার সারিঘাটে। বারশ টাকায় একটা ইঞ্জিন নৌকা ঠিক করা হলো একেবারে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত। সারি ঘাটে দাঁড়িয়েই বুঝতে বাকি রইল না যে, আমরা এক অসাধারণ এক খালে ঘুরতে এসেছি। দোল দেওয়া বাতাসে ছাইয়া নৌকা ভাসল জলে। শুরু হলো চির চেনা ভট ভট শব্দ। ট্রলারের ভট ভট শব্দ যদি না হতো তাহলে হয়তো ভ্রমণ আরও আনন্দময় হতো। ভট ভট শব্দকে কি-বোর্ডে তোলা সুর মনে করে দে ছুটের দল লালাখালের বুকে ভেসে চলল। অপরূপ নীলাভ জলের লালাখালের দু’ তীরে সাজানো গোছানো প্রকৃতির রূপ। যতই ভিতর দিকে যাচ্ছি, ততই মুগ্ধতার আবেশে জড়িয়ে পড়ছি। অবাক বিস্ময়ে চারপাশে তাকিয়ে দেখি। এরমধ্যে পলাশ ভাই ও হানিফের নাচ শুরু হয়ে গেছে, সেই সঙ্গে মোস্তাকের অফুুরন্ত চুটকির (কৌতুক) ফুলঝুরি। আর অন্যদের যেন কোনো ক্লান্তি নেই নিজের ছবি একই ভঙ্গিমায় শতবার তুলতেও। লালাখালের চা ফ্যাক্টরির ঘাটে নৌকা ভিড়ল, চায়ের ফ্যাক্টরির পাশ কেটে যেতেই চোখ গিয়ে উঠল কপালে—ওয়াও! এত সুন্দর চা বাগান। সত্যিই আমরা সবাই অভিভূত। পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা বাগানটি যেন মুনাফার পাশাপাশি পর্যটকদের বিনোদনের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। চা বাগানে পোষা হাতির পিঠে চড়ে বেশ মজা হলো। মায়াময় চা বাগানটি লালাখালকে আরও মায়াবী করে তুলেছে। নৌকা ভাসল এবার জিরোপয়েন্টের দিকে। দূরের সারিবদ্ধ পাহাড়গুলো যেন ভ্রমণ পিপাসুদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। নীল আকাশের রং আর লালাখালের জল মিলেমিশে একাকার। তাদের অপূর্ব মিতালীতে এক চমত্কার আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সবুজে মোড়ানো প্রকৃতি যেন আরও উদার। পাথুরে লালাখাল ভ্রমণ শীত ও গ্রীষ্ম উভয় মৌসুমেই রোমাঞ্চকর। এবার ফেরার পালা।
আরও কী কী দেখবেন
হযরত শাহ্জালাল (র.) ও হযরত শাহ্পরান (র.)-এর মাজার শরীফ, বিমানবন্দর সড়কের পাশে দেশের প্রাচীনতম চা বাগান, রাতার গুল জলার বন, বিছানাকান্দির মায়াময় প্রকৃতি, খাদিম নগর অভয়ারণ্য এবং জাফলংসহ আরও অনেক কিছু।