কফি পানের উপকারিতা, অপকারিতা বা ক্ষতিকর দিক নিয়ে নানা গবেষণা হয়েছে। এখনও হচ্ছে নতুন নতুন গবেষণা। অনেকেই কফি পানের লাভ-ক্ষতি নিয়ে নানা প্রশ্ন করে থাকেন। এমন ৮টি প্রশ্ন উত্থাপন করা হয় একটি বিদেশি ম্যাগাজিনে।
এসব প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে কফি পানে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয় কিনা, কফি ওজন কমাতে সাহায্য করে কিনা, কফি পানের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্ক আছে কিনা, কফি পান হার্টের জন্য ক্ষতিকর কিনা, কফি পানে কোলেস্টেরল বাড়ে কিনা, কফি পানে হ্যাঙ্গওভার থেকে মুক্তি পাওয়া যায় কিনা এবং কফি পানের ফলে মহিলাদের ব্রেস্টসাইজ সংকুচিত হয় কিনা ইত্যাদি। এসব প্রশ্নের উত্তর এখানে তুলে ধরা হলো।
এক: ব্রিটিশ গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে যে, শরীরের জন্য প্রতিদিন যে পরিমাণ পানি বা ফ্লুইডের প্রয়োজন হয় তা পানিসহ অন্যান্য পানীয় থেকেও পূরণ করা যায়। এতদিন ভাবা হতো কফি হচ্ছে ন্যাচারাল ডাইইউরেটিকস অর্থাত্ পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে। কিন্তু নতুন গবেষণায় কফি পানকে ফ্লুইড ইনটেক হিসাবে ধরা হচ্ছে।
দুই: অনেকে প্রচার করে থাকেন কফি পানে ওজন হ্রাস পায়। বিশেষজ্ঞগণ এধরনের কোন উপকারিতার তথ্য পাননি। বরং কফির সঙ্গে মিশানো চিনি ও দুধ ওজন বাড়ায়। তবে প্লেইন কফি পান করা যেতে পারে।
তিন: ক্যান্সারের রোগীরা কফি পান করতে চান না। ধারণা করা হয়ে থাকে কফি পানে ক্যান্সার কোষের ক্ষতি হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে কফির উপাদানে এন্টি অক্সিডেন্ট থাকায় ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি হ্রাসে সহায়ক হয়। গবেষকগণ বলছেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, লিভার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, প্রস্টেট ও স্কিন ক্যান্সার রোধে কফি সহায়ক।
চার: কফির উপাদান ক্যাফেইনে রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। এছাড়া বাড়তে পারে হার্ট বিট। হতে পারে পালপিটিশন। তবে কফি পানে যাদের টলারেন্স হয়ে গেছে তাদের জন্য তেমনটি সমস্যা নাও হতে পারে।
পাঁচ: কফির অন্যতম একটি উপাদান হচ্ছে ক্যাফেস্টল। আর এই ক্যাফেস্টলকে ধরা হয় এলডিএল বা লো ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন বা খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধির স্টিমুলেটর। তবে যাদের এলডিএল কম আছে তাদের অতটা দু:শ্চিন্তা না করা ভালো।
ছয়: যাদের অনেক কাজের চাপ অথবা রাতে ভালো ঘুম হয়নি অথবা মস্তিষ্ক খানিকটা হ্যাঙ্গ হয়ে গেছে তাদের এক কাপ কফি বেশ সতেজ করে তুলতে পারে। কাটতে পারে হ্যাঙ্গওভার-এর মত অবস্থা।
সাত: কফি পানে ছেলে-মেয়েদের গ্রোথ কম হয় কিনা-এমন প্রশ্নের উত্তরে গবেষকগণ উল্লেখ করেছেন, এমন কোন প্রমাণ তারা পাননি। তবে গবেষক উল্লেখ করেছেন, কফি পানে মানবদেহের হাড়ের ক্যালসিয়াম এর ঘনত্ব হ্রাস পায়। তাই বড়দের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কফি পানে ক্ষতি হতে পারে।
আট: কফি পানের সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্যটি প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ জার্নাল অব ক্যান্সারে। ক্যান্সার জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়, যে সব মহিলা দিনে ৩ বা ৪ কাপের বা আরও অধিক পরিমাণ কফি পান করেন তাদের ব্রেস্টের গঠন বা সাইজ স্বাভাবিকের চেয়ে শতকরা ১৭ ভাগ কম হয়। প্রতি এক কাপ অতিরিক্ত কফি পানের কারণে এ সমস্যা আরও বাড়তে পারে। গবেষকগণ বলছেন, অতিমাত্রায় ক্যাফেইন পানে হরমোনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। ফলে মেয়েদের ব্রেস্ট সাইজ ছোট হয়ে যেতে পারে। এব্যাপারে প্রধান গবেষক ড: হেলেনা জার্নস্ট্রম টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে বলেছেন, মেয়েদের অতিরিক্ত কফি পানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত।
লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ