সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এটাই ছিল ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ক্রিস গেইলের শেষ ম্যাচ। আর সেই শেষটা রাঙিয়ে দিতে গেইল নামের দানবটি কোনো কমতি রাখলেন না।
পেসার ওসান থমাসের বিধ্বংসী বোলিং ও ওপেনার ক্রিস গেইলের ঝড়ো ব্যাটিং-এ ইংল্যান্ডের সাথে ওয়ানডে সিরিজ সমতায় শেষ করলো স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শনিবার রাতে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতে সেন্ট লুসিয়ায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে জয়ের জন্য ১১৪ রানের টার্গেট পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ইংলিশদের ৭ উইকেটে হারায় ক্যারিবীয়রা। তিন উইকেট হারিয়ে ২২৭ বল বাকি রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। থমাস বল হাতে ২১ রানে ৫ উইকেট ও গেইল ব্যাট হাতে ২৭ বলে ৭৭ রান করেন। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-২ সমতায় শেষ হলো। তিন ম্যাচের টেস্ট ২-১ ব্যবধানে জিতেছিলো স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচ সেরা হয়েছেন থমাস।
যদিও, ম্যাচে বেশি আলোচিত হয়েছেন গেইলই। ১৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন গেইল। ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে এটাই সবচেয়ে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড। এতে ভেঙে যায় সাবেক অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির রেকর্ডটি। ২০১০ সালে অ্যান্টিগায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে মাত্র ২০ বলে হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন স্যামি। ৯ বছর স্যামির কীর্তি ভেঙে নতুন রেকর্ডের জন্ম দিলেন গেইল।
রেকর্ড গড়া ইনিংসে নয়টি ছক্কা ও পাঁচটি চারে ২৭ বলে ৭৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন গেইল। ১৯ বলের হাফ সেঞ্চুরির ইনিংসে ছয়টি ছক্কা ও তিনটি চার মেরেছিলেন তিনি। ম্যাচে ইংল্যান্ডের দুই পেসার ক্রিস ওকসকে চারটি ও মার্ক উডকে পাঁচটা ছক্কা মারেন গেইল।
সদ্য শেষ হওয়া এই সিরিজে ৩৯ টি ছক্কা মেরেছেন ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল। ফলে কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে সর্বোচ্চ ছক্কার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি।
দ্বিপক্ষীয় সিরিজে সর্বোচ্চ ছক্কার বিশ্বরেকর্ডটি এতোদিন দখলে রেখেছিলেন ভারতের ওপেনার রোহিত শর্মা। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেশের মাটিতে সাত ম্যাচের সিরিজে ২৩টি ছক্কা মেরেছিলেন রোহিত। ওই সিরিজের শেষ ম্যাচে ২০৯ রানের দানবীয় ইনিংস খেলেন তিনি। তার ১৫৮ বলের ইনিংসে ১৬টি ছক্কা ছিলো।
ছক্কার বিশ্বরেকর্ড গড়া দ্বিপক্ষীয় সিরিজে, চার ইনিংসে দু’টি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরিতে ৪২৪ রান করেছেন গেইল। এটাও একটা রেকর্ড। পাঁচ ম্যাচের দ্বিপক্ষীয় সিরিজে সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ড এখন গেইলের দখলে।
দলীয় রানের ৭০ শতাংশের ওপর রান করে দলের জয় এনে দেওয়ার পরও ম্যাচ সেরা হতে পারেননি। এই নিয়ে আক্ষেপ করতেই পারেন গেইল। গেইলের আগে দলের হয়ে ৭০ শতাংশের বেশি রান করেও ম্যাচ সেরা হতে পারেননি নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। সেটা ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের ঘটনা। ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত ঐ ম্যাচে ইংলিশদের ১২৩ রানে অলআউট করে দেয় নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের বোলার টিম সাউদি ৯ ওভারে ৩৩ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। এরপর ১২৪ রানের টার্গেট ২২৬ বল বাকি রেখে ম্যাচ জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড। ব্যাট হাতে আটটি চার ও সাতটি ছক্কায় ২৫ বলে ৭৭ রান করেছিলেন ম্যাককালাম। কিন্তু তারপরও ম্যাচ সেরা হতে পারেননি ম্যাককালাম। দলের মূল রানের ৭০ শতাংশের বেশি রান করেছিলেন তিনি। বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্যের জন্য ম্যাচ সেরা হয়েছেন সাউদি। তাই দলের জয়ের পেছনে অবদান রেখেও ম্যাচ সেরা হতে না পারার দুঃখে ম্যাককালামের সঙ্গী এখন গেইল।
টেস্ট-ওয়ানডে সিরিজ শেষে এবার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে নামবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে আগামী পাঁচ মার্চ। - বাসস/ক্রিকবাজ