আগামী দিনের পৃথিবীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রাজত্ব করবে—এমন ধারণা অনেক প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরই। কিন্তু তাই বলে মানুষের মস্তিষ্কও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে সংযুক্ত হয়ে হাইব্রিড বুদ্ধিমত্তায় পরিণত হবে? আপাত কল্পনা মনে হলেও এমন ধারণার কথাই সম্প্রতি বলেছেন গুগলের প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রাথমিক যুগের অন্যতম চিন্তাবিদ রে কার্জওয়েল। এই শতাব্দীর ত্রিশের দশকের শেষের দিকে কিংবা চল্লিশের দশকের শুরুর দিকেই এমন হাইব্রিড বুদ্ধিমত্তার দেখা মিলবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তার বক্তব্য ও দাবি অনুযায়ী, ত্রিশের দশকের শেষের দিকে এসে মানুষের মস্তিষ্ক যুক্ত হতে পারবে অনলাইন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে। এতে করে জৈবিক বুদ্ধির সাথে অজৈব বুদ্ধির একটি সংকর তৈরি হবে। তিনি বলেন, ‘ওই সময়ে (ত্রিশের দশকের শেষের দিকে বা চল্লিশের দশকের শুরুর দিকে) ডিএনএ সূত্র থেকে অত্যন্ত ক্ষুদ্রাকৃতির সব ‘ন্যানোবট’ তৈরি হবে। এই ন্যানোবটের মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্ককে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে। এতে করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিয়ে আমাদের নিজেদের বুদ্ধিমত্তাকে আরও অনেকটা বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’ তার হিসাব মতে, তার নির্দেশিত সময়ে এসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবিক বুদ্ধিমত্তাকে অতিক্রম করে যাবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই অগ্রগতির সময়কে সাধারণত ‘সিঙ্গুলারিটি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। ২০২৯ সালে এই ‘সিঙ্গুলারিটি’ অর্জনের পর বুদ্ধির রাজ্যে অজৈব বুদ্ধিমত্তার প্রাধান্য তৈরি হবে। মানুষ সেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে নিজেকে সংযুক্ত করতে পারলে তাতে মানুষই লাভবান হবে বলে মনে করেন কার্জওয়েল। শুধু তাই নয়, ক্রমান্বয়ে আমরা আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে তথ্য ব্যাকআপ রাখার পদ্ধতিও উদ্ভাবন করতে পারব এবং এগুলোকে আবার অনলাইনেও সংরক্ষণ করা যাবে। কার্জওয়েলের ভাষ্যে, ‘আমরা ক্রমান্বয়ে একীভূত হয়ে যেতে থাকব এবং নিজেদের আরও বেশি উত্কর্ষের দিকে নিয়ে যেতে থাকব।’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমাগত উন্নয়নকে মানবজাতির জন্য অনেক বিজ্ঞানী হুমকির কারণ বলে মনে করলেও কার্জওয়েলের অবস্থান এর বিপরীতে। মূলত মানুষের দ্বারাই এই বুদ্ধিমত্তার উদ্ভব বলে এটি মানুষের অধীনস্ত হয়ে থাকবে বলেই মনে করেন তিনি। এর আগে অবশ্য বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং, গুগলের ইভানজেলিস্ট ভিনটন কার্ফ প্রমুখ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অতিরিক্ত উত্কর্ষকে মানুষের জন্য হুমকির কারণ বলেই মন্তব্য করেছেন।