কম্পিউটেক্সের সেরা ৫

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নতুন নতুন প্রযুক্তি ও পণ্যের প্রদর্শনী হিসেবে কেবল এশিয়া অঞ্চলেরই নয়, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ আয়োজন তাইওয়ানের কম্পিউটেক্স। প্রতিবছর তাই কম্পিউটেক্স নিয়ে একটু বাড়তি আগ্রহই থাকে প্রযুক্তিপ্রেমীদের। বরাবরের মতো এবারেও কম্পিউটেক্সের জমজমাট প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল তাইওয়ানের তাইপেতে। ২ জুন থেকে শুরু করে চার দিনের এই প্রদর্শনীর সেরা পাঁচ আকর্ষণকে এই লেখায় তুলে ধরেছেন সানজিদা সুলতানা

 
 
 
এনভিডিয়া জিটিএক্স ৯৮০টিআই
 
হাই-এন্ড সব গ্রাফিক্স কার্ডের নির্মাতা হিসেবে এনভিডিয়ার সুনাম নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। ম্যাক্সওয়েল-২তে ডিজাইন করা তাদের জিটিএক্স টাইটান এক্সকে তো এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রাফিক্স কার্ডের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু এক হাজার ডলারের বেশি দামের কারণে বাজারে তেমন একটা সাফল্য পায়নি টাইটান এক্স। সেই দিকটাকেই মাথায় রেখে এনভিডিয়া এবারের কম্পিউটেক্সে প্রদর্শন করেছে জিটিএক্স ৯৮০ টিআই মডেলের গ্রাফিক্স কার্ড। পারফর্ম্যান্সের দিক থেকে এটি টাইটান এক্স কার্ডের সাথে পাল্লা দিতে সক্ষম হলেও এর দাম রাখা হয়েছে সাড়ে ছয় শ ডলার। এই কার্ডের মূলে রয়েছে জিএম২০০এস গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ)। এতে রয়েছে ২৮১৬ কুডা (CUDA) কোর এবং ৬ গিগাবাইট ভির্যাম। অন্যান্য ফিচারগুলো টাইটান এক্স কার্ডের মতোই। এসব ফিচারের মধ্যে রয়েছে ৯৬ আরওপি, ১০০০ মেগাহার্জ কোর ক্লক, ১০৭৫ মেগাহার্জ পর্যন্ত বুস্ট ক্লক, ৭ গিগাবাইট ডিডিআরফাইভ মেমোরি, ৩৮৪-বিট মেমোরি বাস, ২৫০ ওয়াট থার্মাল ডিজাইন পাওয়ার। মাইক্রোসফট ডিরেক্টএক্স ১২ সমর্থন করার সাথে সাথে এই কার্ডটি ফোরকে রেজ্যুলেশনও সমর্থন করে। ফলে এই সময়ের অন্যতম সেরা একটি গ্রাফিক্স কার্ড হিসেবেই জায়গা দখল করে নিতে সমর্থ এনভিডিয়ার জিটিএক্স৯৮০ টিআই।
 
থান্ডারবোল্ট ৩ ও ইউএসবি টাইপ-সি
 
পিসির সাথে নানা ধরনের পেরিফেরাল যুক্ত করার জন্য ইন্টারফেস ইউএসবি পোর্ট সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত হয়ে থাকে। সম্প্রতি ইউএসবি পোর্টের নতুন সংস্করণ হিসেবে ইউএসবি টাইপ-সি উঠে এসেছে আলোচনায়। এই প্রথমবারের মতো টাইপ-সির মাধ্যমে ইউএসবি ক্যাবল ইউএসবি পোর্টের সাথে যুক্ত হতে পারবে যেকোনো দিক থেকেই। ইউএসবি টাইপ-সি ব্যবহূত হয়েছে, এমন অনেক প্রযুক্তি পণ্যেরই দেখা মিলেছে কম্পিউটেক্সে। তবে এর বাইরেও সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ইন্টেলের থান্ডারবোল্ট ৩। মূলত ইউএসবি টাইপ-সিকে নির্ভর করেই ডিজাইন করা হয়েছে থান্ডারবোল্ট ৩। আলপাইন রিজ কোডনামের এই পেরিফেরাল ইন্টারফেস তাত্ত্বিকভাবে সেকেন্ডে ৪০ গিগাবিট পর্যন্ত তথ্য স্থানান্তর গতি অর্জন করতে পারে। সেই হিসেবে এটি এখন পর্যন্ত দ্রুততম পেরিফেরাল ইন্টারফেস। এ ছাড়াও এটি ৬০ হার্জ গতিতে দুইটি ফোরকে ডিসপ্লে এবং একই গতিতে একটি ফাইভকে ডিসপ্লে সমর্থন করবে। পিসিআই এক্সপ্রেস এবং ডিসপ্লে পোর্টও সমর্থন করে এই ক্যাবল। মজার বিষয় হচ্ছে, এই ক্যাবলের সাথে সংযুক্ত ডিভাইসকে এটি চার্জও করবে ১০০ ওয়ার্ট পর্যন্ত ক্ষমতায়।
 
আসুস জেনওয়াচ২
 
এলজির জি ওয়াচ আর বা মটোরোলার মটো৩৬০-এর মতো সব শীর্ষস্থানীয় স্মার্ট হাতঘড়ির সাথে পাল্লা দিতে আসুস কম্পিউটেক্সে প্রদর্শন করেছে জেনওয়াচ২। এর পূর্বসূরি আসুস জেনওয়াচের তুলনায় এতে হার্ডওয়্যারে খানিকটা উন্নতি হয়েছে। তবে এর ডিজাইনে এসেছে আমূল পরিবর্তন। দুইটি ভিন্ন ভিন্ন আকারে তিনটি রঙে এটি বাজারে আনবে আসুস। আর ঘড়ির বেল্টের উপকরণেও থাকবে বৈচিত্র্য। ২.৫ডি গরিলা গ্লাস ৩-এর সুরক্ষার সাথে এতে থাকছে অ্যামোলেড ডিসপ্লে। থাকছে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর, ডিসপ্লের উভয় পাশেই স্ট্যান্ডবাই বাটন। পানিরোধী সুবিধা আর দুই দিনের ব্যাটারি ব্যাকআপ ছাড়াও এই স্মার্ট হাতঘড়ির জন্য থাকছে ম্যাগনেটিক চার্জার।
 
মিডিয়াটেক হেলিও পি১০
 
সময়ের সাথে সাথে স্মার্টফোনের কম্পিউটিং ক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই সকলের মনোযোগ কাজ করছে। অক্টাকোর প্রসেসর তাই এখন স্মার্টফোনের অনেকটাই সহজলভ্য হয়ে পড়েছে। সেইসাথে এখন ৬৪-বিটের প্রসেসর নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা এবং গ্রাহকদের কাছে। তাইওয়ানের চিপ নির্মাতা মিডিয়াটেক মূলত এমন বেশি কম্পিউটিং ক্ষমতার স্মার্টফোনের কথা মাথায় রেখেই কম্পিউটেক্সে প্রদর্শন করেছে হেলিও পি১০ মডেলের চিপসেট। এর মূলে রয়েছে দুই গিগাহার্জ গতির একটি ট্রু অক্টা-কোর ৬৪-বিট কর্টেক্স-এ৫৩ সিপিইউ। আর এর সাথে গ্রাফিক্স পারফর্ম্যান্স নিশ্চিত করতে এতে রয়েছে ৭০০ মেগাহার্জ গতির ডুয়াল-কোর ৬৪-বিট মালি-টি৮৬০ গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট। মিডিয়াটেকের হেলিও পি সিরিজের এটিই প্রথম চিপসেট। একে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এটি ২১ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা এবং নতুন ট্রু ব্রাইট ইমেজ প্রসেসিং ইঞ্জিন সমর্থন করে। টিএসএমসি’র ২৮ ন্যানোমিটার এইচপিসি+ প্রসেসে তৈরি প্রথম চিপসেটও এটি। ওয়ার্ল্ডমোড এলটিইক্যাট-৬, টাস্ক শিডিউলিং অ্যালগরিদম, মিডিয়াটেকের ভিজ্যুয়াল প্রসেসিং অ্যাপ্লিকেশন, নন-কন্টাক্ট হিট মনিটরিং প্রভৃতি ফিচাও সমর্থন করবে এটি। সেইসাথে একে পালস অক্সিমিটার বা পোর্টেবল ইসিজি মনিটরিং ডিভাইস হিসেবে ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে।
 
ইন্টেল রিয়েলসেন্স ক্যামেরা
 

ইন্টেলের রিয়েলসেন্স ক্যামেরা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে অনেকদিন থেকেই। এর আগে ইন্টেল রিয়েলসেন্স ক্যামেরা বাজারেও এনেছে। এর মধ্যে তারা ঘোষণা দিয়েছিল একে মূলধারার প্রযুক্তি পণ্যের সাথে সংযুক্তির। ইন্টারনেট অব থিংসের প্রসারের সাথে সাথে একে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসি ছাড়াও অন্যান্য ওয়্যারেবল গ্যাজেট বা পরিধেয় গ্যাজেটের সাথে সংযুক্তির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিল ইন্টেল। সেই অনুযায়ীই তারা কম্পিউটেক্সে প্রদর্শন করেছে রিয়েলসেন্স ক্যামেরা। বিশেষ করে গেমিং ল্যাপটপ বা অন্যান্য পারফর্ম্যান্স ল্যাপটপে অগমেন্টেড রিয়েলিটির সাথে সংশ্লিষ্ট কাজে একে ব্যবহারের কথা জানিয়েছে ইন্টেল। এর বাইরে ছয় ইঞ্চি আকৃতির বেশ কয়েকটি স্মার্টফোনে রিয়েলসেন্স ক্যামেরা প্রদর্শন করেছে তারা। এতে করে লাইভ থ্রিডি ফেস মডেলিং, অবজেক্ট স্ক্যানিং, থ্রিডি স্পেস ম্যাপিংয়ের মতো কাজ তাই রিয়েলসেন্স ক্যামেরার মাধ্যমে সহজ হয়ে উঠেছে।