পলিথিন ব্যাগে সয়লাব বালাগঞ্জ ওসমানীনগরের বাজার

বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরের বাজার ও খুচরা দোকানগুলো বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগে সয়লাব। দুই উপজেলার বাজারগুলোতে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকার পলিথিন ব্যাগ সরবরাহ হয় বলে সূত্রে জানা গেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ইদানীং ফার্মেসিগুলোতেও পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। পলিথিন ব্যাগ ক্রয়-বিক্রয়ের বিরুদ্ধে আইন থাকলেও এক্ষেত্রে প্রয়োগ সামান্যই। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা পলিথিন আমদানি করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বালাগঞ্জ বাজার, মুরার বাজার, মাদরাসা বাজার, আজিজপুর চৗরাস্তা বাজার, ইলাশপুর বাজার, ওসমানীগঞ্জ বাজার ও বোয়ালজুড় বাজার, ওসমানীনগরের গোয়ালা বাজার, তাজপুর বাজার, দয়ামীর দয়ামীর, বুরুঙ্গা বাজার, সাদীপুর বাজার, শেরপুর নতুন বাজার, উমরপুর বাজার, খাদিমপুর বাজার, কলারাই বাজার, হাজীপুর বাজার ও কুরুয়া বাজারের দোকানগুলোতে পলিথিনের শপিং ব্যাগ বিক্রি হচ্ছে। দোকানীরা ক্রেতাদের হাতে এসব ব্যাগ ধরিয়ে দিচ্ছেন। বালাগঞ্জ উপজেলার মোরার বাজার ও ওসমানীনগরের মধ্যে গোয়ালাবাজার ও তাজপুর বাজার হচ্ছে পলিথিন ব্যবসার অন্যতম স্থান। তাজপুর বাজারে পলিথিন ব্যবসার পাইকারী দোকান রয়েছে। গোয়ালাবাজারে রয়েছে পলিথিন ব্যবসার ডিলার। এখান থেকে বেশ কয়েকজন হকার ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার বাজারগুলোতে পলিথিন বিক্রি করছেন। এছাড়া গোয়ালাবাজারে আরো কয়েকজন এ ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ওসমানীনগরের শেরপুর নতুন বাজার, গোয়ালাবাজার ও তাজপুর বাজারে পলিথিন মজুদ রাখার কয়েকটি গুদাম রয়েছে। গুদামে রাখা এসব পলিথিন বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। এভাবে দুই উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ্য পলিথিন ক্রয়-বিক্রয় করা হচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্থানে মাসোহারা দিয়েই এ ব্যবসা করছেন বলে জানান কয়েকজন পলিথিন বিক্রেতা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে করে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কোনো অভিযান চোখে পড়েনি। মাঝে-মধ্যে পলিথিনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জেল-জরিমানা করা হলেও মূল হোতারা আড়ালে থেকে যাচ্ছেন। বছর তিনেক পূর্বে ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে কয়েকজন পলিথিন ব্যবসায়ীকে আটক ও গুদাম থেকে পলিথিন উদ্ধার করে তা পোড়ানো হলেও ব্যবসায়ীরা এখনো দেদারসে পলিথিন ক্রয়-বিক্রয় করে আসছেন।

বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার ব্যবসায়ীরা বলেন, কাগজ বা পাটের ব্যাগ নিতে ক্রেতারা আগ্রহী নয়। তাই বাধ্য হয়েই দোকানে পলিথিন ব্যাগ রাখতে হয়। ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, পলিথিন বিক্রির বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে। বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, আমি এখানে সদ্য যোগদান করেছি। তবে এ বিষয়ে অবশ্যই অভিযান পরিচালনা করা হবে।