বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে নিয়োগ বঞ্চিত মাহামুদুল হককে হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে গত বছর ১২ এপ্রিল নির্দেশ দেয় অ্যাপিলেট ডিভিশন। সেই নির্দেশকে উপেক্ষা করে একের পর এক নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে ওই বিভাগে। কিন্তু সাত বছর আগে অপেক্ষমাণ তালিকায় ১ম স্থান (পরে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় যেহেতু প্রথমজন যোগদান করেননি) অধিকারী মাহামুদুলকে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না।
সিনিয়র একজন শিক্ষক জানান, বাছাই বোর্ডের সুপারিশপত্রে জালিয়াতির মাধ্যমে ওই সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এক শিক্ষককে বাঁচাতে গিয়ে বার বার আদালত অমান্য করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। এই বিষয়ে ঐ সময় দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যদিও কোর্টের কাগজপত্রে দেখা যায় মাহামুদুল হক তার রিট পিটিশনে কারো নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা চাননি শুধু তার নিয়োগ চেয়েছেন। জানা যায়, ওই জালিয়াতিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় তত্কালীন উপাচার্যের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।
বাছাই বোর্ড এবং ২১তম ও ২২তম সিন্ডিকেট- এর কাগজপত্র থেকে জানা যায়, মাহামুদুল হককে ছাড়া মেধাতালিকা ও অপেক্ষমাণ তালিকার সকলকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সাংবাদিকতা বিভাগে।
মাহামুদুল হকের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘রায় জানা সত্ত্বেও মাহামুদুল হককে নিয়োগ না দিয়ে বার বার আদালত অমান্য করে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে। কিন্তু মাহামুদুলকে নিয়োগ দিচ্ছে না। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, রংপুর ২০০৯ এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব আইনই ভঙ্গ করেছে বাছাই বোর্ডের সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করে ওইসব পদে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অথরিটি তাবিউর রহমান বিষয়টি সম্পর্কে বলতে পারবেন।’
তাবিউর রহমান বলেন, ‘আদালত যখন নির্দেশ দিয়েছে তখন তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে মানতেই হবে। কিন্তু চাইলেই তো আর তাত্ক্ষণিকভাবে রায় কার্যকর করা যায় না। যথাযথ প্রক্রিয়া মেইনটেইন করে আদালতের রায় বাস্তবায়ন করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’