জর্ডান থেকে লাশ হয়ে ফিরলেন রেশমা
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৫, ১৭:০০
দালালদের ফাঁদে পড়ে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে গিয়ে অবশেষে জর্ডান থেকে লাশ হয়ে ফিরলেন খুলনার রূপসা উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের গৃহবধূ রেশমা বেগম (৩৫)।বুধবার ভোরে তার লাশ ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর ইউনিয়নের বর্ণিগ্রামে তার বাবার বাড়ি এসে পৌঁছে। রেশমা বর্ণি গ্রামের মো. শাহজাহান বাওয়ালীর মেয়ে এবং রূপসা উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন দিলুর স্ত্রী। রেশমার আবীর (৭) ও আমীর (৪) নামে দুই সন্তান রয়েছে। রেশমার চাচাতো ভাই স্কুল শিক্ষক হাফিজুর রহমান সাগর ও স্বামী দেলোয়ার হোসেন দিলুর ছো্টভাই কামাল হোসেন রেশমার লাশ আসার বিষয়টি জানান। ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, লাশ আসার খবর পেয়ে রেশমার বাবার বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।হাফিজুর রহমান সাগর জানান, রেশমার ছোট বোন শোকরা বেগম ঢাকা থেকে লাশ নিয়ে সকালে বাবার বাড়িতে পৌঁছেন। এর আগে জর্ডান থেকে রেশমার লাশ গত রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দেশে আসে। পরে লাশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের হিমাগারে রাখা হয়। রেশমার লাশ ঢাকায় আসে স্বামী দিলুর ঠিকানায়। কিন্তু দিলু লাশ আনতে না যাওয়ায় লাশ খুলনায় আনতে দেরি হয়েছে।তিনি বলেন, জর্ডান থেকে পাঠানো পোস্টমর্ডেম রিপোর্টে বলা হয়েছে, রেশমা আত্মহত্যা করেছে। রেশমাকে ডুমুরিয়ায় তার বাবার বাড়িতে দাফন করা হবে। এদিকে স্বামী দেলোয়ার হোসেন দিলুর ছো্টভাই কামাল হোসেন বলেন, নন্দনপুর গ্রামের দুই দালালকে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল জর্ডানে গিয়েছিলেন রেশমা। গত ৩ জুন দেশে ফেরার জন্য তার স্বামীর কাছে কান্নাকাটি করে। এরপর ৮ জুন জর্ডানের বাংলাদেশি দূতাবাস থেকে জানানো হয় রেশমা বেগমের লাশ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, লাশ আসার খবর পেয়ে আমার ভাই রেশমার বাবার বাড়িতে গেছে। রেশমার শ্বশুরবাড়ি এলাকার প্রতিবেশীরা জানান, রেশমার প্রতিবেশী নন্দনপুর গ্রামের ফজলে হওলাদারের স্ত্রী নাসিমা বেগমের জামাই ফুলতলার জাকারিয়া বিদেশে লোক পাঠান। নাসিমা বেগম প্রায় বাড়িতে এসে রেশমাকে বিদেশে যাওয়ার জন্য নানা প্রলোভন দেখাতো। এক পর্যায় ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে জর্ডানে যাওয়ার ব্যাপারে চুক্তি হয় তাদের।