চট্টগ্রাম কাস্টমসে পণ্যের মিথ্যা ঘোষণাকারীদের বিশেষ ছাড়!

চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণাকারীদের বিশেষ ছাড় দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আওতায় যে সকল আমদানিকারক তাদের মিথ্যা বা ভুল স্বীকার করছেন তাদের ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড অর্ধেক কিংবা কম ধরা হচ্ছে। কিন্তু যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের মিথ্যা ঘোষণার কথা স্বীকার করবেন না, তাদের দণ্ড দ্বিগুণ কিংবা আরও বেশি ধরার কথা ইতোমধ্যে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে তার উক্ত কর্মস্থলে নিয়োগ পাওয়ার পর গত এক মাসে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।

জানা যায়, বিশেষ ছাড় দেয়ার ঘোষণার সাথে সাথে যারা এখনো তাদের মিথ্যা ঘোষণার ব্যাপারে স্বীকার করছে না তাদের পণ্যের ওপরও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অসত্ ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে কঠোর মনোভাব দেখানো হলে তা মোটামুটি সকল স্তরে প্রভাব ফেলে। ইতোমধ্যে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বলে জানা যায়। সূত্র জানায়, অনেকেই তাদের পণ্য ছাড় করতে ধীরগতি অবলম্বন করছেন। তবে এটা সাময়িক বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কঠোর অবস্থানের কারণে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আনায় প্রতিদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মামলাও বেড়ে চলেছে। গতকাল রবিবার পর্যন্ত প্রায় ১১০টি মামলা হয়েছে বলে জানা যায়। এ মামলাগুলো কমিশনার পর্যন্ত আসা ফাইলসমূহের ক্ষেত্রে হয়েছে। তবে কাস্টমসের নিচের ধাপে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ মীমাংসা হয়েছে।

জানা যায়, ইতোমধ্যে বিপি শিট ও জিপি শিট আমদানিকারকদের অনেকেই তাদের অনেক পণ্যের সঠিক ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। বিশেষ ছাড় দেয়ার ঘোষণার পর পুনঃঘোষণার মাধ্যমে পণ্য ছাড় করানোর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এর ফলে ওই সকল প্রতিষ্ঠানের পণ্যের শুল্ক বাবদ দ্বিগুণ আয় করছে কাস্টমস। নতুন ঘোষণায় পণ্যের শুল্ক যেমন বাড়ছে, একই সাথে জরিমানা বাবদও বিশাল অংকের টাকা আদায় হচ্ছে। জানা যায়, চট্টগ্রাম কাস্টমসের মাধ্যমে কিছু সংখ্যক অসাধু আমদানিকারক কতিপয় পণ্য মিথ্যা ঘোষণায় অহরহ ছাড় করিয়ে নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কাস্টমসেরও বিভিন্ন পর্যায়ের অসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের কয়েকটি পণ্য চালানের বিপরীতে মামলা দায়ের হয়েছে। মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য ছাড় করণের সাথে জড়িত আমদানিকারক, সিএন্ডএফসহ সংশ্লিষ্টদেরও নজরে নেয়া হচ্ছে বলে সূত্রে জানা যায়।