ললিত মোদী কাণ্ডে উভয় সংকটে মোদী

রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ললিত মোদী বিতর্ক এই মুহূর্তে এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যেখানে বসুন্ধরা রাজের পদত্যাগের ব্যাপারে চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপর। এদিকে সুযোগ বুঝে কটাক্ষ করেছেন বিজেপিতে কোণঠাঁসা হয়ে পড়া বর্ষীয়ান নেতা এল কে আদভানি। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

 
প্রধানমন্ত্রী এই মুহূর্তে এক উভয় সঙ্কটে। একদিকে বসুন্ধরা শুধু নয়, সুষমা স্বরাজেরও ইস্তফা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করছেন নাগপুরের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শীর্ষ নেতারা। যদি এখনই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সুষমা এবং বসুন্ধরাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় তাহলে মোদীর রাজনৈতিক কর্তৃত্বের যে অবক্ষয় শুরু হয়েছে তা রোধ করা সম্ভব হবে। আবার বিজেপি নেতৃত্বের এই ভয় আছে যে, ব্যবস্থা নিলে বিরোধী পক্ষ রক্তের স্বাদ পাবে। এবং তখনই অভিযোগের তর্জনী মোদীর দিকে ধাবিত হবে। যেমন বোফর্সের কেলেঙ্কারির ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোলাঙ্কিকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। অরুণ সিংহকে পদত্যাগ করাতে বাধ্য করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে বিরোধী আক্রমণ থামেনি। উল্টো শেষ পর্যন্ত সেটা রাজীব গান্ধীর দিকে ধাবিত হয়েছিল। তবে আরএসএস এবং বিজেপি নেতাদের একটি বড় অংশ মনে করছেন ললিত মোদীর ঘটনার সঙ্গে বোফর্সের তুলনা করাটা অসমীচীন। বোফর্সে অনেক আন্তর্জাতিক চরিত্র এবং চক্রান্ত ছিল। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কেনাবেচার বিষয় ছিল। এক্ষেত্রে বিষয়টা অনেকটাই ব্যক্তিগত দুর্নীতি।
 
প্রধানমন্ত্রী মোদী চাপের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সুষমা স্বরাজও মোদীর কাছে পদ্যত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।  কিন্তু মোদী আপাতত তাকেও চুপ করে থাকতে বলেছেন। জানিয়েছেন, যা সিদ্ধান্ত নেয়ার তা নেয়া হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস অর্থাত্ রবিবারের পর।
 
অতীতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কৃষ্ণ মেননকে নিয়ে নেহরু সমস্যায় পড়েছিলেন। কিছুদিনের জন্য কৃষ্ণ মেনন ইস্তফা দিয়েছিলেন। পরে নেহরু তাকে ফেরত নিয়ে আসেন। মনমোহন সিংহের সময় টুজি কেলেঙ্কারির প্রেক্ষিতে এ রাজাকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল। কিন্তু চিদাম্বরামের মন্ত্রণালয় বদল করে অর্থমন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দেয়া হয়। এখন বসুন্ধরাকে যদি রাজ্য স্তরে সরানো হয় তাহলে সুষমাকেও সরানোর চাপ এসে যাবে। সেক্ষেত্রে চিদাম্বরামের মতো কি সুষমার দফতর বদল হবে? নাকি এ রাজার মতো তাকে ইস্তফা দিতে হবে সেটাও একটা বিচার্য বিষয়। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী যদি এদের না সরানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে বিহার নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধী, লালু, নীতিশ বাম-সহ সমস্ত বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে এক আক্রমণাত্মক আন্দোলন করার সুযোগ পাবেন। নরেন্দ্র মোদী অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির ফেরার জন্যও অপেক্ষা করছেন।
 

প্রধানমন্ত্রী পদের দৌঁড়ে শিষ্যের কাছে হার হয়েছিল গুরুর। মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দল ও সরকারেও কার্যত দুর্বল হয়ে গেছেন আদভানি। নখদন্তহীন উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য করে আদভানির শোকগাথা প্রায় লিখেই ফেলেছে বিজেপি। তবে ৮৭ বছরের লৌহপুরুষ তাতে দমে যেতে নারাজ। গত এক বছর তিনি মুখ খোলেননি। কিন্তু ললিত মোদী কান্ডের সময় তিনি গা ঝাড়া দিয়ে উঠলেন। তিনি বললেন, দেশ আবার জরুরি অবস্থায় ফিরতে পারে এবং যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে জরুরি অবস্থা জারির ৪০ বছর পূর্তি হচ্ছে। কংগ্রেসকে বিপাকে ফেলতে এই বর্ষপূর্তি সাড়ম্বরে পালন করার প্রস্তুতি বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু আদভানীর বক্তব্য বিজেপি-বিরোধীদের হাতেই অস্ত্র তুলে দিয়েছে।