বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের দুর্নীতির ১৯ উত্স চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমান ক্রয় ও লিজ, রক্ষণাবেক্ষণ, টিকিট বিক্রয়, কার্গো এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট, ক্যাটারিং খাতসহ আটটি খাতে দুর্নীতি ও সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের ক্রয় খাত, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক কাজ, কনসালটেন্ট নিয়োগ, বিমানবন্দরের স্পেস/স্টল ও বিলবোর্ড ভাড়া, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজসহ ১১টি খাতের দুর্নীতির উত্স চিহ্নিত করেছে দুদক। দুদকের এ সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিম দীর্ঘদিন অনুসন্ধান করে দুর্নীতির এসব উত্স চিহ্নিত ও তা প্রতিরোধের সুপারিশমালা প্রস্তুত করেছে।
দুদক কমিশনার ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান গতকাল রবিবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলীর কাছে অনুসন্ধানী এবং পর্যবেক্ষণমূলক এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।
এসময় দুদক কমিশনার ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান বলেন, কমিশন দুর্নীতির জনশ্রুতি রয়েছে এমন ২৫টি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আইন, বিধি, পরিচালনা পদ্ধতি, সরকারি অর্থ আত্মসাত্/অপচয়ের দিকসমূহ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে এসব প্রতিষ্ঠানের জনসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সফলতা ও সীমাবদ্ধতা, আইনি জটিলতা, সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি ও দুর্নীতির কারণসমূহ চিহ্নিত করে তা বন্ধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৫টি প্রাতিষ্ঠানিক টিমকে নির্দেশ দেয়।
কমিশনের নির্দেশনা আলোকে এসব টিম প্রতিবেদন দাখিল করছে। ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে এজাতীয় প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে জানিয়ে দুদক কমিশনার বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এসময় প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী দুদকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শুধু দুর্নীতি নয় যারা কাজে অবহেলা করবেন তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবাজদের স্থান নেই।