গ্রিসের ঋণ সমস্যা সমাধানের সবশেষ চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ইউরোজোন নেতাদের জরুরি বৈঠক সোমবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ইউরোপের ১৯টি দেশের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল এ শীর্ষ সম্মেলনের আগেই গ্রিস এবং তার ঋণদাতাদের মধ্যে অবশ্যই একটি চুক্তি হতে হবে বলে তাগিদ দিয়েছেন। অন্যথায় সম্মেলনে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। খবর বিবিসির।
এ দিকে, গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস সোমবার ইউরোজোনের সম্মেলনে ঋণচুক্তিতে পৌঁছার আশা প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সোমবার ইউরোজোনের দেশগুলোর নেতাদের সম্মেলন ঋণচুক্তি করার পথে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি।’
সম্মেলনকে সফল করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে সিপ্রাস বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নীতি ও গণতন্ত্রের ভিত্তিতে একটি সমাধানে পৌঁছানো হবে।’
অন্য দিকে, গ্রিসে ঋণ সংকট সমাধানের সময় পেরিয়ে আসছে দেখে সঞ্চয়কারীদের ব্যাংক থেকে তাদের অর্থ তুলে নেয়ার হিড়িক পড়েছে।
গত সপ্তাহে গ্রিসের ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ইউরো তুলে নিয়েছে গ্রাহকরা। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে নগদ অর্থ আছে কিনা, সেটা নিয়ে দেশটিতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার ব্যাংকগুলোকে আরো কিছু জরুরি অর্থ দেয়ার বিষয়টি অনুমোদন করেছে ইউরোপিয় সেন্ট্রাল ব্যাংক। রাশিয়া বলেছে গ্রিস চাইলে তারাও কিছু ঋণ সহায়তা মঞ্জুর করতে পারে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের ঋণ পরিশোধের জন্যে আর মাত্র দুই সপ্তাহের মতো সময় আছে গ্রিসের হাতে। সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে দেশটিকে ইউরোজোন এবং সম্ভবত ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেও বেরিয়ে যেতে হবে।
যদিও গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস বলছেন, ‘এই সংকটের ইতিবাচক সমাধানের চেষ্টা করছে তার সরকার।’