জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের মনোনয়নে একাদশ সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সুলতান মোহাম্মদ মনসুর (মৌলভীবাজার-২) ও মোকাব্বির খান (সিলেট-২) শপথ নিতে যাচ্ছেন আগামী ৭ মার্চ বৃহস্পতিবার। ওইদিন সকাল ১১টায় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে তারা শপথ নেবেন। শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়ে শনিবার এই দু্ইজনের পৃথকভাবে দেওয়া চিঠি গতকাল রবিবার হাতে পেয়ে তাদের প্রত্যাশিত তারিখ অনুযায়ীই শপথের সময় নির্ধারণ করেছেন স্পিকার।
দল-জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সুলতান-মোকাব্বিরের শপথ নেওয়ার বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘শপথ নেবেন বলে তারা আমার সাথে কোনো আলোচনা করেননি। আমি পত্রিকায় দেখলাম। এখন পার্টির নেতাদের বলেছি তারা বসে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
‘আমি গণফোরামের কেউ নই, আমি গণফোরামকে প্রতিনিধিত্বও করি না। কাজেই আমি শপথ নিলে গণফোরামের কে কি বললেন সেটি ভাবার দরকার আমার নেই’- শনিবার ইত্তেফাককে দেওয়া সুলতান মনসুরের এই বক্তব্য সম্পর্কেও কথা বলেন ড. কামাল। ড. কামাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘এটা ঠিক নয়। উনি তো গণফোরামের মনোনয়নেই এমপি হয়েছেন। তাছাড়া তিনি গণফোরামের সদস্য। সদস্য ফরম পূরণ করেই তিনি দলের সদস্য হয়েছেন।’
আর মোকাব্বির খান ইত্তেফাককে বলেছেন, ‘নির্বাচনের কয়েকদিন পরেই গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন এ বিষয়ে বলেছিলেন-আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেব। ড. কামাল জাতির সামনেই সেদিন একথা বলেছিলেন। এরপর দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভায়ও বেশিরভাগ সদস্যই সংসদে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।’ মোকাব্বিরের এই বক্তব্যের বিষয়ে ড. কামাল বলেন, ‘কিন্তু দলীয়ভাবে তো আমরা শপথের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল কেউ শপথ নেবেন না।’
এদিকে, দলীয় সভাপতি ড. কামালের পরামর্শে গতকাল বিকালে রাজধানীর আরামবাগে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেছে গণফোরামের সম্পাদকমণ্ডলী। বৈঠক শেষে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মোশতাক আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি, সবাই তাদেরকে বহিষ্কার করার বিষয়ে মত দিয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।’ অন্যদিকে, শপথ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় সুলতান মনসুর ও মোকাব্বিরকে গণফোরাম কার্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন দলের নেতা-কর্মীরা।