জেলেই যেতে হচ্ছে রাজউকের উচ্চমান সহকারী (এস্টেট শাখা) মো. শফিউল্লাহকে। দুর্নীতির মামলায় নিম্ন আদালত থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছিলেন। কিন্তু হাইকোর্ট ওই রায় বাতিল করে তাকে এগারো বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইসঙ্গে রায় প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। দুদকের আপিল গ্রহণ করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ রায় দেন।
রায়ে আসামিকে দণ্ডবিধির ২০৪ ও ২১৭ ধারায় ২ বছর করে চার বছর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৭ বছর দণ্ড দেওয়া হয়। সকল ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বিধায় তাকে সাত বছর দণ্ড ভোগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিনউদ্দিন মানিক। তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় উচ্চ আদালত তাকে এ দণ্ড দিয়েছেন।
মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাজউকের অথরাইজড অফিসার-১ ও ৩ এর দপ্তরের ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ৫৭টি বহুতল ভবনের নকশা রেকর্ডরুমে পাওয়া যায়নি। ইস্যু ক্লার্ক হিসেবে মো. শফিউল্লাহর দায়িত্ব ছিল এসব ভবনের নকশা রেকর্ডরুমে প্রেরণ এবং সংরক্ষণ করা। কিন্তু আসামি তা না করে এগুলো বিনষ্ট/গায়েব করেন। যার ফলে উক্ত নথি ব্যতীত এসব বহুতল ভবনের নকশা যথাযথভাবে অনুমোদিত করা হয়েছে তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে অসত্ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন না করার অভিযোগে ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর মতিঝিল থানায় দুর্নীতির মামলা দায়ের করে দুদক।
এ মামলায় ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক মুন্সী রফিউল আলম আসামিকে বেকসুর খালাস দেন। রায়ে বলা হয়, মামলায় উল্লেখিত নথিসমূহ বিনষ্ট বা হারানো বা গায়েব করার ক্ষেত্রে এ আসামি এককভাবে দায়ী নয়। এক্ষেত্রে রাজউক উক্ত নথিসমূহ হারানো বা বিনষ্ট বা গায়েবের বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক বা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাদের অধীন কর্মকর্তাদের দিয়ে দায়সারা গোছের একটি জিডি করে স্ব স্ব কর্মকর্তাদের চাকরিকালীন সময় পার করছে। যা কাম্য নয়। এক্ষেত্রে রাজউক কর্তৃপক্ষকে তথ্য-প্রযুক্তির সন্নিবেশন ঘটিয়ে একটি ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা আবশ্যক। অন্যথায় ভবিষ্যতেও এরূপ ঘটতে পারে। অতএব রাষ্ট্রপক্ষের আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিকে খালাস দেওয়া হলো।
খালাসের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। আপিলের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ডিএজি একেএম আমিন উদ্দিন মানিক, দুদকের পক্ষে আসিফ হাসান ও আসামি পক্ষে একেএম ফখরুল ইসলাম শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের খালাসের রায় বাতিল করে ১১ বছরের সাজা দেন।