আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী ভিড় করছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। এতে এই হাসপাতালের চিকিত্সাধীন অন্যান্য রোগীরা ইনফকশনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। কারণ দর্শনার্থীর সমাগম যেখানে বেশি সেখানে ইনফেকশনের ঝুঁকি বেশি থাকে। বিএসএমএমইউয়ের বর্তমান এই অবস্থায় আতঙ্কিত চিকিত্সকরা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া হাসপাতালে ভিড় না করতে দর্শনার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অতিরিক্ত ভিড় যেমন রোগীর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাতে পারে তেমনি তা চিকিত্সায়ও ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।’ নেতাকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে ভিসি বলেন, ‘কেউ যেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে দেখতে ভিড় না করেন। এই মুহূর্তে তার (ওবায়দুল কাদের) অবস্থা সংকটাপন্ন। দর্শনার্থীরা তাকে দেখতে যেতে পারবেন না। মানুষের বেশি ভিড়ে তার ইনফেকশন ঘটাতে পারে। চিকিত্সকরা মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। সরঞ্জামাদি স্থানান্তরে অসুবিধা হচ্ছে আর কোলাহলে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’ ভিসি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের যে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিত্সাধীন আছেন সেখানে তার মতো আরো অনেক সংকটাপন্ন হূদরোগীরা চিকিত্সাধীন। দর্শনার্থীদের ভিড়ে ওবায়দুল কাদেরসহ ওই সকল সংকটাপন্ন রোগীদের ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে চিকিত্সকরা জানান।
গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী ভিড় করেন। এদিকে হূদরোগ সংক্রান্ত জটিলতায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হওয়ার খবরের পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের অহেতুক হাসপাতালে ভিড় করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু সারাদিন সে নির্দেশ অমান্য করতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের। সকাল থেকেই ডি-ব্লকের সামনেসহ পুরো বিএসএমএমইউ জুড়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অত্যাধিক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। জানা গেছে, আজ হাসপাতালে দর্শনার্থীরা যাতে ভিড় করতে না পারে সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কঠোরভাবে মনিটরিং করবেন। কারণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হলো দেশের সর্বশেষ চিকিত্সা প্রতিষ্ঠান। ঘটনা-দুর্ঘটনাসহ সব ধরনের অপারেশনের জটিল রোগী এখানে চিকিত্সাধীন। সবার চিকিত্সা সেবা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।