অনলাইনে কেনাকাটা জমে উঠেছে

 
ঈদ উপলক্ষে অনলাইনে কেনাকাটা জমে উঠেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে অনলাইন ক্রেতার সংখ্যা। ফেসবুকের পাতা আর নিজস্ব ওয়েবসাইটজুড়ে সাজানো বাহারি পোশাক, দৃষ্টিনন্দন গহনা, আর ব্যাগ-কসমেটিকস জানান দেয় আমরা আছি ঈদ স্পেশাল নিয়ে। মার্কেটে যাওয়ার ঝুঁকি-ঝামেলা এড়িয়ে শপিং করাই হল অনলাইন শপিং। এখানে একটি ক্লিকেই আপনার সামনে হাজির হবে পণ্যের বিশাল সম্ভার। পছন্দের পণ্য নির্বাচন করে অর্ডার করলেই ঘরে বসে পেতে পারেন তা। তাই ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সরগরম হয়ে ওঠছে অনলাইনে বিক্রির সাইটগুলো। গতবছরের তুলনায় এবছর তাদের ক্রেতা বেশ বেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। অনলাইন বেচাকেনার ক্ষেত্রে দুই ধরনের ওয়েবসাইট আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে দেশের নামি দামি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট। অন্যটি হল শুধুই অনলাইন ভিত্তিক কেনাবেচার ওয়েবসাইট।

 

নিজের পছন্দের পণ্যটি ঘরে বসে পছন্দ করে, ঘরে বসেই তা পাওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন অনেক ক্রেতা। ক্রেতারা বলছেন খরচ ও সময় সাশ্রয় এবং ঝামেলা এড়াতে অনলাইনে কেনাকাটা একটি বড় সুযোগ। এই সুযোগে কাছের মানুষকে উপহার দেয়ার বড় সুবিধা পাওয়া যায় বলে জানান ধানমন্ডিতে থাকা জিনাত রহমান। জিনাত বলেন, বাবা দেশের বাইরে আছেন । সব সময় আমাদের সাথে ঈদ করতে আসতে পারেন না। তাই আমি গতবার বাবাকে নিজের টাকায় ‘কে ক্র্যাফ্ট’ থেকে একটি পাঞ্জাবি কিনে দেই। প্রথমে আমি পছন্দ করে বাবাকে জানাই বাবাও তা পছন্দ করেন। একইভাবে বাবাও আমার জন্য আড়ং থেকে একটি ড্রেস কিনে দেন। তাই অনলাইন বিক্রেতারা মনে করেন তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন মানুষের কাছে অনলাইন বেচাকেনার আস্থার জায়গাটা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। আবার মার্কেট থেকে শপিং করার পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেহরিণ আকবরের ফেসবুকের পাতায় একটি অনলাইন ওয়েবসাইটের জামা ভাল লেগে গেলে তা কিনে নেন।

 

দেশে দুই ধরনের অনলাইন সেবা চালু আছে। এক ধরনের সেবা পেতে আপনাকে পণ্য পছন্দ করে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আগে মূল্য দিতে হবে। পরে হাতে পাবেন পণ্যটি। অন্য প্রকার সেবা আপনাকে পণ্য পৌঁছে দিয়ে মূল্য নিয়ে যাবে। পণ্যভেদে কিছু পরিবহন খরচও আপনার কাছ থেকে নেবেন অনলাইন বিক্রেতারা। তবে পণ্যের দাম যত বেশি পরিবহন খরচও তত কম। অনলাইনে যেমন দেশের মধ্যে আপনি পন্য কিনতে পারবেন তেমনি বিদেশেও পছন্দের পন্য পাঠাতে পারবেন।  ব্যাগ, ঘড়ি, জুয়েলারি যদি বন্ধুকে দিতে চান  তাহলেও অনলাইনে তা পৌছে দেয়ার সুযোগ আছে। অনলাইন বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে তাদের ঈদের পোশাক, জুয়েলারি, জুতা, ব্যাগ, কসমেটিকস প্রভৃতি পণ্যের বিক্রি কয়েকগুন বেড়েছে। তারা আরও জানান, সাধারণত করপোরেট শ্রেণির মানুষ বেশি অনলাইনে কেনাকাটা করলেও এখন তা অনেক শ্রেণির মধ্যে ছড়িয়ে গেছে।

 

গত বছর জুলাই মাসে ‘আড়ং’ তাদের অনলাইন সেবা শুরু করে বেশ ভাল সাড়া পেয়েছেন বলে জানান আড়ং চিফ অপারেটিভ অফিসার মোহাম্মদ আব্দুর রউফ। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, বিশ্বের যে কোন জায়গা থেকে অনলাইনে আড়ং পণ্য কেনাকাটা করা গেলেও ডেলিভারি তারা শুধু দেশের ভেতরেই দিয়ে থাকেন। তবে অনলাইনে কেনাকাটার অর্ডারের ৫০ শতাংশই দেশের বাইরে থেকে হয় বলে চলতি বছরের শেষে তারা বিশ্বের অন্যান্য দেশে পণ্য ডেলিভারি দেয়ার ব্যবস্থা করবেন।

 

আব্দুর রউফ আরও বলেন, এখন প্রতিদিন তাদের অনলাইনে পঞ্চাশের বেশি পণ্য কেনাবেচা হয়। যার মূল্য দাঁড়ায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। তবে প্রতিদিনই তাদের অর্ডার বাড়ছে বলে জানান তিনি। এসব পণ্য পাঁচ হাজার টাকা মূল্যমানের নিচে হলে ৮০ টাকা চার্জ নিয়ে ঠিকানা মতো পৌঁছে দেয়া হয়। আর পাঁচ হাজার টাকা ঊর্ধ্বের পণ্য পৌঁছাতে কোন চার্জ লাগে না। তিনি বলেন, ক্রেডিটকার্ড, ভিসা ও মাস্টার কার্ড ও বিকাশের মাধ্যমে আমরা টাকা গ্রহণ করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেই।

 

দেশের বাইরেও পণ্য সরবরাহ করে থাকে দেশের অন্যতম ফ্যাশন হাউস ‘কে ক্র্যাফট’। তারা প্রায় আড়াই বছর ধরে অনলাইনে বেচাকেনা করে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক খালিদ মাহমুদ খান বলেন, আমরা বিভিন্নকার্ডের মাধ্যমে এবং বিকাশেও মূল্য নিয়ে পণ্য বিক্রি করি আর পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব থাকে একটি সার্ভিস প্রোভাইডারের। সার্ভিস প্রোভাইডার খরচ নিয়ে দেশে ও দেশের বাইরে পণ্য পৌঁছে দেয়। তিনি বলেন, আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা , অস্ট্রেলিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আমাদের পণ্য যায়। দেশের মধ্যে যে সকল স্থানে শো-রুম নেই সে সকল স্থান থেকে আমাদের অনেক ক্রেতা অনলাইনে কেনাকাটা করেন বলেও খালিদ জানান। এইসকল অনলাইন বিক্রেতারা তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে পণ্য প্রদর্শন করে থাকেন।

 

অপরদিকে অনলাইনে বেচাকেনার অসংখ্য ওয়েবসাইটেও চলছে ঈদের শপিং। তেমনই একটি ওয়েবসাইট দারাজ ডট কম ডট বিডি। দারাজ কর্তৃপক্ষ জানায়, সারা বছরই তারা অনলাইনে কেনা বেচা করেন। কারণ তাদের কোন আউট লেট নাই। ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিনই বাড়ছে তাদের বিক্রি।