মেরুদণ্ডে চোট রয়েছে। চিড় ধরেছে পাঁজরের হাড়ে। সেই অসুস্থতা কাটিয়ে উঠলেই কাজে যোগ দেবেন বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। জানালেন ভারতের বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল বীরেন্দ্র সিংহ ধানোয়া। পাকিস্তানে বিমান হানার পর এই প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন করল ভারতীয় বিমান বাহিনী। তবে অভিযানে পাকিস্তানে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি বিমান বাহিনী প্রধান। আনন্দবাজার পত্রিকা
প্রায় ৫৮ ঘণ্টা পাক সেনার কব্জায় থাকার পর শুক্রবার রাতে দেশে ফেরেন অভিনন্দন। তারপর থেকেই দিল্লিতে সেনাবাহিনীর আর আর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন উইং কমান্ডার। সেখানে তার চিকিত্সা এবং শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। রবিবারই চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, পাকিস্তান তার শরীরে কোনো আড়িপাতার যন্ত্র ঢুকিয়ে দিতে পারেনি। তবে তার মেরুদণ্ডের নিচের অংশে আঘাত ধরা পড়েছে। চোট রয়েছে পাঁজরের হাড়েও। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এও জানায়, আরও অন্তত ১০ দিন চিকিত্সা এবং শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হবে তাকে। ফলে অন্তত এই ১০ দিনের আগে যে অভিনন্দন কাজে যোগ দিতে পারবেন না, সেটা কার্যত নিশ্চিতই ছিল।
এই পরিস্থিতিতে সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিমান বাহিনীপ্রধান। সেখানেই অভিনন্দন কবে কাজে যোগ দিতে পারবেন, সেই প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। ধানোয়া বলেন, ‘আপাতত হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। তিনি কবে ফের ককপিটে বসতে পারবেন, সেই বিষয়টি নির্ভর করছে তার শারীরিক সুস্থতার উপর। চিকিত্সকরা তাকে ‘ফিট’ ঘোষণা করলেই ফের কাজে যোগ দেবেন।’
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ভারতে হামলা চালায় পাক বায়ুসেনা। মিগ-২১ বাইসন যুদ্ধবিমানে পাল্টা প্রতিরোধ করেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার অভিনন্দন। পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার পর নিজের বিমানও ধ্বংস হয়ে যায়। তবে তার আগেই বিমান থেকে ‘ইজেক্ট’ করে অর্থাত্ চলন্ত বিমান থেকে বেরিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মিরের মাটিতে নামতে সক্ষম হন অভিনন্দন। তার পরই পাক সেনার হাতে বন্দি হন। তবে তার আগে তাকে পাক অধিকৃত কাশ্মিরের জনতা মারধর করে। সেই মারধর এবং ‘ইজেক্ট’ এর জেরেই চোট পান অভিনন্দন।