২১.৫ মিলিয়ন মার্কিন কর্মীর তথ্য হ্যাক

হ্যাকাররা সাইবার হামলার মাধ্যমে মার্কিন দুই কোটিরও বেশি কর্মীর তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। গত এপ্রিল মাসে প্রাথমিকভাবে এই হ্যাকিংয়ের তথ্য জানতে পারার পর ধারণা করা হয়েছিল এতে প্রায় চার মিলিয়ন মার্কিন কর্মীর তথ্য হাতিয়ে নিতে সমর্থ হয়েছে হ্যাকাররা। কিন্তু সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগের ধারণার চাইতে পাঁচ গুণেরও বেশি কর্মীর তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। এই ঘটনার জেরে পদত্যাগ করেছেন মর্কিন অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের (ওপিএম) ডিরেক্টর ক্যাথরিন আরশুলেটা। বিবিসি প্রকাশিত খবরে জানা যায়, গত এপ্রিল মাসে প্রথমবারের মতো মার্কিন কর্মী বাহিনীর এই তথ্যভাণ্ডারে হামলার খবর জানা যায়। তবে তখনও পর্যন্ত এই হামলার প্রকৃত চিত্রটি বুঝে ওঠা যায়নি। গেল দুই দিনে এসে প্রকৃত চিত্রটি ফুটে উঠতে শুরু করে। এসময় মার্কিন অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের (ওপিএম) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, প্রায় ২১.৫ মিলিয়ন বা দুই কোটি ১৫ লক্ষ মার্কিন কর্মীদের তথ্য হ্যাক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মী, চাকরির আবেদনকারী, ফেডারেল কন্ট্রাক্টর ও তাদের লক্ষ লক্ষ পার্টনারদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এই হ্যাকিংয়ে। এ ছাড়া সাবেক মার্কিন কর্মীদের তথ্যও রয়েছে এর মধ্যে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে সোস্যাল সিকিউরিটি নম্বর; বাসস্থান ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ইতিহাস; কর্মীদের কাজের ইতিহাস; স্বাস্থ্য, অপরাধ ও আর্থিক ইতিহাস, আঙুলের ছাপ প্রভৃতি তথ্য। হ্যাকিংয়ের এই খবর প্রকাশের পর থেকেই সন্দেহের তীর লক্ষ করা হয় চীনের দিকে। তবে চীনের পক্ষ থেকে এই হ্যাকিংয়ের যেকোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে অস্বীকার করা হয়েছে। এদিকে ওপিএমে হ্যাকিংয়ের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই ওপিএম ডিরেক্টরের পদত্যাগ দাবি করা হয়। মার্কিন কর্মীদের তথ্যের নিরাপত্তায় শক্তিশালী অবস্থান না নিতে পারায় বারাক ওবামা প্রশাসনেরও সমালোচনা করা হয় এবং অবিলম্বে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে তথ্য সুরক্ষার দিকে নজর দিতে বলা হয়। এর প্রেক্ষিতে ঘটনার একদিন পরই পদত্যাগ করেছেন ওপিএম ডিরেক্টর ক্যাথরিন আরশুলেটা। এদিকে চীনের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই হ্যাকিংয়ের পেছনে চীনকেই দায়ী করে যাওয়া হচ্ছে।