বড়াল নদী এখন আবর্জনার ভাগাড়!

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা

চাটমোহর উপজেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত এক কালের প্রমত্তা বড়াল নদী এখন আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। চাটমোহর পৌরসভার বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেসরকারি ক্লিনিক ও বাসাবাড়ির বর্জ্যের ঠিকানা এখন শুকিয়ে যাওয়া এ নদী। নদীর দুই পাড় দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে পাকা স্থাপনা। দখল, দূষণ আর কচুরিপানার কারণে বড়াল এখন মশা উত্পাদনের সূতিকাগারে পরিণত হয়েছে। অস্তিত্ব হারাচ্ছে দেশের অন্যতম প্রধান এ নদী।

রাজশাহীর চারঘাট পদ্মা নদী থেকে উত্পত্তি হয়ে ২২০ কিলোমিটার বড়াল নদী গিয়ে মিশেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে যমুনা নদীতে। কিন্তু আশির দশকে চারঘাটে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর উত্সমুখে স্লুইসগেট নির্মাণ করে বড়ালের পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। এতে অস্তিত্ব হারাতে থাকে প্রমত্তা বড়াল। এরপর বাগাতিপাড়ার আটঘরিয়া ও চাটমোহরের দহপাড়ায় আরো দুটি স্লুইস গেট নির্মাণ করে পাউবো। এ ছাড়া চাটমোহর উপজেলা পরিষদ বড়ালের চাটমোহর অংশে তিনটি ক্রসবাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ শুরু করে।

২০০৮ সালে চাটমোহর থেকে শুরু হয় বড়াল রক্ষা আন্দোলন। গঠিত হয় কমিটি। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফলে সরকার বড়াল চালুর উদ্যোগ নেয়। অপসারণ করা হয় চাটমোহরের তিনটি ক্রসবাঁধ ও দহপাড়া স্লুইসগেট। কিন্তু বড়াল খনন কিংবা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে কোনো প্রকার পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বড়ালে তলদেশে এখন বিভিন্ন ফসলের যেমন আবাদ হচ্ছে। তেমনি ময়লা-আবর্জনাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ফেলাও হচ্ছে বড়ালে। কচুরিপানায় পরিপূর্ণ বড়াল এখন মশা উত্পাদনের সূতিকাগার। বড়ালে ফেলা বর্জ্যের দুর্গন্ধে টেকা দায়। কচুরিপানা পরিষ্কারের দাবি জোরালো হয়েছে। বড়াল নদী দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বর্জ্য ফেলা হচ্ছে অপ্রতিরোধ্যভাবে। পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। দেখার কেউ নেই। 

বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব ও বাপার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এসএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘বড়াল প্রবাহমান করা এখন সময়ের দাবি। বড়ালের কচুরিপানা দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে তাদের উচ্ছেদ করার পাশাপাশি নদী খনন করে প্রবাহমান করতে হবে।’

পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বড়ালের কচুরিপানা দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। মশার উত্পাতে অতিষ্ঠ পৌরবাসীসহ বড়াল পাড়ের মানুষ।’

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘কচুরিপানা পরিষ্কারের জন্য বাজেট করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। নদী রক্ষায় সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করা হচ্ছে।’