চিকিত্সক সংকটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

ইত্তেফাক ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিত্সক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

হাকিমপুরে চিকিত্সক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত

হাকিমপুর (দিনাজপুর): হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩টি চিকিত্সকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। ফলে চিকিত্সক সংকটের কারণে ঠিকমতো চিকিত্সা সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস প্রধান এমদাদুল হক জানান, একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, একজন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, একজন ডেন্টিস সার্জনসহ মোট ১৩ জন জুনিয়র মেডিক্যাল অফিসার থাকার কথা। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং দুজন জুনিয়র মেডিক্যাল অফিসার কর্মরত আছেন। বাকী ১০টি পদে কোনো চিকিত্সক নেই।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. রুপা সাহা জানান, দিনদিন রোগীদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় চিকিত্সা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল জব্বার জানান, তিনজন চিকিত্সক এবং ছয়জন মেডিক্যাল এ্যাসিসটেন্ট দিয়ে রোগীদের চিকিত্সা সেবা দেওয়া হচ্ছে। কোনো রোগীই সেবা ছাড়া ফিরে যাচ্ছেন না।

মণিরামপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে চিকিত্সাসেবা

মণিরামপুর (যশোর): ৫০ শয্যাবিশিষ্ট মণিরামপুর উপজেলার একটি মাত্রা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের চিকিত্সা চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে। ছাদের প্লাস্টারের বড় অংশ খসে পড়ে বা ছাদের ভিম ধসে পড়ে যে কোনো মুহূর্তে ভর্তি রোগীদের উপর পড়তে পারে বলে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ। এছাড়া ২৬ জন চিকিত্সকের অনুমোদিত পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত চিকিত্সক আছেন মাত্র ছয়জন। যার মধ্যে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, কনসালটেন্ট এ্যানেসথেসিয়া, কনসালটেন্ট সার্জারি, কনসালটেন্ট ডেন্টালের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের কোনো চিকিত্সক নেই। তাছাড়া মেডিক্যাল টেকনোলোজি (ল্যাব), মেডিক্যাল টেকনোলজি (রেডিওগ্রাফার), ফার্মাসিস্ট, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ সহকারী, পরিসংখ্যানবিদ, অফিস সহকারীর মতো অন্তত শতখানেক চিকিত্সক-কর্মচারির পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ১০ বছর ধরে এক্স-রে ও আল্ট্রাসনো মেশিনটি অকোজো হয়ে পড়ে আছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সেটা সঠিক নয়। চিকিত্সকেরা আন্তরিকভাবে সেবা দিচ্ছেন, তবে জনবল সংকটের কারণে একটু সমস্যা হচ্ছে। চিকিত্সক, পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপকরণ, নতুন বিল্ডিং  ও অ্যাম্বুলেন্সসহ সামগ্রিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যাপারে যথাযথ  কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

চিকিত্সক সংকটে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সখীপুর (টাঙ্গাইল) : টাঙ্গাইলের সখীপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সকের পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিত্সাসেবা। সূত্রে জানা যায়, সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ চিকিত্সকের স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন। দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট গাইনি, শিশু, চক্ষু, মেডিক্যাল হোমিও, জুনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জারি, জুনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যানেসথেসিস্ট, মেডিক্যাল অফিসার অ্যানেসথেসিস্টের পদ শূন্য রয়েছে। 

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বেলায়েত হোসেন জানান, গাইনি কনসালট্যান্ট নেই প্রায় সাত মাস ও জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসারের (ইমার্জেন্সি অপস্ টেকনিক্যাল) পদটি প্রায় দেড় বছর ধরে শূন্য থাকায় প্রসূতি নারীদের স্বাস্থ্যসেবা দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চিকিত্সক সংকটের সমাধান তার হাতে নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।

ডাক্তার নেই, লাইসেন্স নেই, জেনারেল হাসপাতাল সিলগালা

বেড়া (পাবনা) : আবাসিক ডাক্তার নেই, লাইসেন্স নেই, প্রয়োজনীয় লোকবল নেই তবুও চলছিল মৃদুলা জেনারেল হাসপাতাল। সোমবার বেসরকারি হাসপাতালটি সিলগালা করে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গত শুক্রবার রাতে একটি অ্যাপেনডিক্স অপারেশনের সময় টাকা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় রোগীকে অপারেশন টেবিলে রেখেই চলে যায় আবাসিক ডাক্তার মোস্তাকিম বিল্লাহ জনি। পরে রোগীর অবস্থা অবনতি হলে তাকে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে বেড়া মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপরেই অভিযানে নামেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত মৃদুলা জেনারেল হাসপাতালে যান। এ সময় সেখানে কয়েকজন নার্স কর্মরত থাকলেও কোনো ডাক্তার ছিল না। ছিল না কোনো রোগীও। বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, এই বেসরকারি হাসপাতালে অভিযানের সময় তারা কোনো কাগজপত্র বা আইনি শর্ত পূরণ দেখাতে পারেনি। ফলে হাসপাতালটি সিলগালা করা হয়েছে। কাগজপত্রসহ যাবতীয় শর্ত পূরণ করা সাপেক্ষে পুনরায় অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।