আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে গতকাল সোমবার থেকে। তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র বিতরণ, যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের মতো আনুষ্ঠানিকতাগুলো শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীরা এখন ভোটের মাঠে। প্রার্থীরা তাদের নিজস্ব প্যানেল এবং ব্যক্তিগত ইশতেহার নিয়ে ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন। বিভিন্ন প্যানেল এবং প্রার্থীদের ইশতেহারে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন ডাকসুতে বিজয়ী প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন এবং অধিকার নিয়ে কাজ করবেন।
ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বামজোট এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদসহ ক্যাম্পাসের সব ক্রিয়াশীল সংগঠন ডাকসু ও হল সংসদে প্যানেল দিয়েছে। এর বাইরে একাধিক স্বতন্ত্র জোটসহ আছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখন উত্সবের আমেজ। মধুর ক্যান্টিন, টিএসসি, কলাভবন, কার্জন হলসহ ক্যাম্পাসের সব জায়গায় আলোচনার বিষয় ডাকসু নির্বাচন।
ছাত্র সংগঠনগুলোর ইশতেহার পর্যালোচনা করে দেখা যায় প্রায় প্রতিটি সংগঠনের ইশতেহারেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিই সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে।
ছাত্রলীগের ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের জন্য হলে মেধাভিত্তিক সিট বণ্টন, ক্যান্টিনে মানসম্মত খাবার নিশ্চিতকরণ, হলে হলে প্রাথমিক চিকিত্সার ব্যবস্থা, ক্যাম্পাসে রিকশা ভাড়া নির্ধারণ ও গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ, স্মার্ট আইডি কার্ড এবং রেজিস্টার ভবনে সহজ সেবা নিশ্চিত করণের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারের বাস্তবায়ন কতটুকু হবে বা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে দেওয়া অঙ্গীকারগুলো পূরণ করবেন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মনোনীত প্যানেলের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী সাদ বিন কাদের ইত্তেফাককে বলেন, ডাকসু নির্বাচন একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেকোন সমস্যায় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ অতীতেও ছিল ভবিষ্যতেও থাকবে। এছাড়া এক বছরে শিক্ষার্থীদের জন্য যতটুকু কাজ করতে পারি তার ভিত্তিতেই তো পরবর্তী বছর ভোট চাইতে হবে।
ছাত্রদল আনুষ্ঠানিক কোন ইশতেহার এখনো ঘোষণা না করলেও শিক্ষার্থীদের একটি শঙ্কামুক্ত, নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস বিনির্মাণের আশ্বাস দিচ্ছে। এছাড়া ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা নির্বাচিত হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষায় হলে হলে গণরুম ও গেস্টরুম প্রথা বিলোপ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জোরপূর্বক অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা প্রতিরোধ, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট মোকাবিলায় অছাত্র এবং বহিরাগতদের হল থেকে উচ্ছেদ, হল ও বিভাগগুলো কর্তৃক অবৈধ ফি ও সকল বাণিজ্যিক কোর্স বন্ধসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তাদের ইশতেহারে থাকবে। ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার অনিকের কাছে তাদের ইশতেহার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ (গতকাল) আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনের বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে আমরা আজ ইশতেহার ঘোষণা করিনি। আগামীকাল (আজ) আমরা ইশতেহার ঘোষণা করবো। ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল প্রার্থীদের নিয়ে মিটিং করলেও তাদের আমন্ত্রণ জানায়নি।
বামজোট এবং অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের ইশতেহারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার মধ্যে সমগ্র ক্যাম্পাসকে উন্মুক্ত ইন্টারনেট সেবার আওতায় আনা, বেদখল হয়ে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি পুনরুদ্ধার করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করা, ২৪ ঘণ্টা লাইব্রেরি খোলা রাখা, বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিতকরণ, টিএসসির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে কার্যকর করা এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে সন্ধ্যা ছয়টা এবং রাত নয়টায় বিভিন্ন রুটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সার্ভিস চালু করা অন্যতম।