ঠাকুরগাঁওয়ের সেই পাঁচজনের মৃত্যু নিপাহ ভাইরাসে

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

জেলায় ২০ দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে নিপাহ ভাইরাসে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত রবিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাদুড়ের খাওয়া খেজুরের কাঁচা রস খেলে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে নিপাহ ভাইরাস ছড়াতে পারে। আইইডিসিআরের তদন্ত দল প্রথম মৃত ব্যক্তির খেজুরের কাঁচা রস পানের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পায়নি। তবে পরে যে চারজন মারা যান তারা প্রথম মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে ধারণা করছে।

আইইডিসিআর সবাইকে খেজুরের কাঁচা রস পানে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের নিপাহ সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা (মাস্ক ও গ্লাভস) গ্রহণ করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবাদান করতে বলেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইইডিসিআর, আইসিডিডিআর, বি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরিচালিত ‘ডিজিজ সার্ভিলেন্সে’ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাতরোগে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। রোগের কারণ অনুসন্ধানে আইইডিসিআর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচ সদস্যের একটি টিম পাঠায়। পরবর্তীতে আরো চার সদস্যের আরেকটি টিম তাদের সাথে যোগ দেয়। দলটি পহেলা মার্চ পর্যন্ত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তদন্ত কাজ পরিচালনা করে।

হাসপাতালের চিকিত্সক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও মৃত ব্যক্তিদের পরিবার, প্রতিবেশী, গ্রামবাসীদের কাছ থেকে তথ্য উপাত্ত ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহ করেন দলের সদস্যরা। রোগের কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, মৃত ব্যক্তিদের সকলের জ্বর, মাথা ব্যথা, বমি ও মস্তিষ্কে ইনফেকশনের (এনকেফালাইটিস) উপসর্গ ছিল।

আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার পর হাত সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এ রকম রোগের ক্ষেত্রে রোগীদের সম্পূর্ণ পৃথক স্থানে রাখা ও পৃথক স্থানে সেবা প্রদানের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিত্সকরা। রোগীর মৃত্যু হলে তার দাফন নির্দেশিত নিয়ম মেনে করতে হবে, যাতে মৃত  রোগীর লালা/রক্ত/মল/মূত্রের সরাসরি সংস্পর্শে অন্য কেউ না আসে। মাস্ক ও গ্লাভস পরে নির্দেশিত ব্যবস্থা গ্রহণ করে মৃতদেহ গোসল করাতে হবে। যাদের মৃত্যু হলো— আবু তাহের, কন্যা হোসনে আরা বেগম, তার স্বামী হাবিবুর রহমান বাবলু, তাহেরের দুই পুত্র ইউসুফ আলী ও মেহেদী হাসান।