চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য নেওয়া সবচেয়ে বড় প্রকল্পটির কাজ ঢিমেতালে চলছে বলে দাবি করছেন নাগরিকরা। প্রায় বছর পার হতে চললেও এখনো পর্যন্ত ১৬টি খালের আবর্জনা পরিষ্কার ছাড়া তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। যেসব খাল পরিষ্কার করা হয়েছে সেগুলোতে আবারো আবর্জনা পড়ে ভরাট হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৪২৫ কোটি পাওয়া গেলেও এই অর্থ ব্যয়ে আগামী বর্ষায় সুফল কতটুকু আসবে তা নিয়ে মন্তব্য করতে নারাজ সিডিএ।
‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সমপ্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক এই মেগা প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায় ২০১৬ সালের আগস্টে। ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল। সেই হিসেবে আগামী মাসেই এক বছর পূর্ণ হবে।
২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ চলছে।
গত শনিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম চট্টগ্রামে এসে প্রকল্পটি নিয়ে কথা বলেন। সেখানে সিডিএ কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে প্রকল্পের আওতায় ১৬টি খাল পরিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া ১২টি খালে প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী মাটি খনন, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ ও ১১টি ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছে।
সরেজমিনে চাক্তাই খালের কয়েকটি এলাকা পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রকল্পের আওতায় যেসব এলাকায় আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছিল সেসব এলাকায় আবারো আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। এ সময় স্থানীয়রা অভিযোগ করছিলেন যে, আবর্জনা পরিষ্কারের পর সেগুলো খালের পাড়ে রাখায় এমনটি হয়েছে।
যদিও বিষয়টি অস্বীকার করে প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাঈনুদ্দীন গতকাল সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, প্রথম দফায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এসব খাল পরিষ্কার করা হয়েছিল। এখন সেগুলো আবার পরিষ্কার করতে হবে।’
এখনো পর্যন্ত যেটুকু কাজ হয়েছে তাতে আগামী বর্ষায় জলাবদ্ধতা থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা সেনাবাহিনীকে জিজ্ঞেস করুন। আমরা বলতে পারব না।’
তবে একাধিক নাগরিক ইত্তেফাককে বলেছেন, ‘অতীতে সিটি করপোরেশনও এভাবে আবর্জনা পরিষ্কার করত। পরে আবার ভরাট হতো। এখনো তাই হচ্ছে। আগামী বর্ষায় জলাবদ্ধতা থেকে নিস্তার মিলবে না বলে দাবি করেন অনেকে।’
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এক মতবিনিময় সভায় প্রকল্পের কাজ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন সিডিএ’র বোর্ড সদস্য হাসান মুরাদ বিপ্লব। তিনি দাবি করেছিলেন, জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না। যারা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন তাদের অভিজ্ঞতায় ঘাটতি আছে বলে জনগণ দাবি করছে। এই অবস্থায় আগামী বর্ষায় জলাবদ্ধতা হলে সিটি করপোরেশনকেই নাগরিকরা দায়ী করবেন।
এই বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, ‘গত বর্ষার আগে এসব খালের ময়লা পরিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু খালের ময়লা পরিষ্কার করে আসার পর স্থানীয়রা আবারও খালের ওপর নানা ময়লা-আবর্জনা ফেলেছে।