সেনাবাহিনী ও বাঙালিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি বাসন্তী চাকমা। তার বক্তব্যকে ঘিরে আন্দোলনে নেমেছে পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক বিভিন্ন বাঙালি সংগঠন। এসব সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ১৯৯৬ সালের ১ মে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে একটি গণহত্যার কথা উল্লেখ করেন বাসন্তী চাকমা যা সম্পূর্ণ বানোয়াট। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনী ও পাবর্ত্য বাঙালিরা ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল বলেও তিনি দাবি করেন। এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্যের সাহায্যে পাহাড়ে বিরাজমান সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করেছেন বাসন্তী চাকমা। তার এই বক্তব্যের জের ধরে গত কয়েকদিন খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে টানা কর্মসূচি পালন করছে পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক বাঙালিদের বিভিন্ন সংগঠন। অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা প্রার্থনা করে সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে না দাঁড়ালে বাসন্তী চাকমার বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
গত শনিবার খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে পার্বত্য অধিকার ফোরাম ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে বাসন্তী চাকমার পদত্যাগ দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্বত্য অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. মাঈন উদ্দীন।
পাহাড়ে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়। পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাসন্তী চাকমা পাহাড়ে শান্তি বা উন্নয়নের জন্য সংসদে যাননি। তিনি পাহাড়ের সন্ত্রাসী সংগঠন শান্তিবাহিনীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য গিয়েছেন। সংসদে তার উগ্র সামপ্রদায়িক বক্তব্যের কারণে আওয়ামী লীগ সরকার বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে।
গতকাল খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ‘সচেতন মাটিরাঙ্গাবাসী’ ব্যানারে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা পাহাড়ে সামপ্রদায়িকতার বিষ ছড়ানোর অপচেষ্টার অভিযোগ করে বলেন, বাসন্তী চাকমা পাহাড়ের বিষফোঁড়া। শান্তির জনপদ পার্বত্য চট্টগ্রামকে নতুন করে অশান্ত করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন তিনি। এ সময় বাসন্তী চাকমা আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন উল্লেখ করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মো. শামসুল হক বাসন্তী চাকমাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। ক্ষমা না চাইলে বাসন্তী চাকমাকে পাহাড়ে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হবে বলে উল্লেখ করেন। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা বাসন্তী চাকমার কুশপুত্তলিকা দাহ করে।
এ ব্যাপারে জানতে গতকাল কয়েকবার বাসন্তী চাকমা এমপি’র মোবাইলে ফোন করা হলেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।