পুলিশের অবহেলায় তালতলীর উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টুর হাতে নির্মমভাবে নির্যাতিত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুন্দর আলী, এমন অভিযোগ করেছে স্থানীয় অধিবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। এমনকি ঘটনাস্থলে পৌঁছেও মিন্টুর কাছ থেকে নির্যাতিত ওই বৃদ্ধ শিক্ষককে ছাড়িয়ে আনতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতিতেই নির্যাতিত শিক্ষকের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন মিন্টু। এমনকি দীর্ঘ চার ঘন্টার নির্যাতনে শিক্ষকের রক্তাক্ত জামা কাপড় পাল্টে নতুন কাপড় পরানো হয় পুলিশের উপস্থিতিতেই। স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন, এর আগেও উপজেলা চেয়ারম্যান মিন্টু বিভিন্ন সময়ে থানার এসআই, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষক এমনকি তালতলী উপজেলার সাবেক একজন ইউএনওকেও মারধর করেন নিজ হাতে। প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করেছে।
বরগুনা প্রেসক্লাবে বসে সাংবাদিকদের কাছে স্বামীকে নির্যাতনের বর্ণনা দেন সুন্দর আলীর স্ত্রী শামসুন্নাহার নাছিমা। তিনি বলেন, মামলা না করার জন্যে তাদেরকে ভয়ভীতি ও হুমকী দিচ্ছেন মিন্টু ও তার লোকজন। এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ বাবুল আক্তার দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময়ে তিনি থানা থেকে দূরে ছিলেন। খবর পাওয়ার সাথে ফোন করে থানা থেকে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে দেই। এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক বলেন, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন। তিনি আরও বলেন, নির্যাতিত পরিবার যদি তালতলী থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে সাহস না পায় তবে তার কার্যালয়ে এলে তিনি অভিযোগ নেয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন।