চকরিয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষ আঞ্চলিক মহাসড়কে

জেলার চকরিয়া উপজেলায় টানা বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় দুপুরের দিকে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে প্লাবিত হয়ে পড়েছে উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের কোণাখালী, বিএমচর, ঢেমুশিয়া, বদরখালী ও পশ্চিম বড়ভেওলাসহ অন্তত পাঁচটি ইউনিয়ন।
 
বর্তমানে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। এসব ইউনিয়নের বেশিরভাগ বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে বুক সমান পানিতে। টিউবওয়েল ডুবে থাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে অভ্যন্তরীণ এলাকার সড়ক যোগাযোগ। উপকূলীয় অঞ্চলের বানবাসী বেশির ভাগ মানুষ আঞ্চলিক মহাসড়কে পলিথিনের টাবু টাঙ্গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।  রবিবার বিকেলে বানের পানিতে আটকা পড়ে উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নে আনোয়ার হোসেন (৫৪) নামের এক ব্যক্তি ও পৌরসভার ৫নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরীস্থ কলেরা হাসপাতালে আড়াই বছরের এক শিশু মারা গেছে।
 
সোমবার দুপুরে মাতামুহুরী নদীতে ভেসে আসা আনুমানিক ৪৬ বছরের অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ উদ্ধার হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর।        
 
বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জানান,  রবিবার সকালে বানিয়ারছড়াস্থ টিএনটি পাহাড় ও ইউনিয়নের পূর্ব বানিয়ারকুম এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। টিএনটি পাহাড়ের একটি অংশ মহাসড়কে ধসে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
 
তিনি আরো জানান, গত মাসের বন্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাধের অংশ দিয়ে এ ইউনিয়নের প্রায় এলাকা তলিয়ে গেছে। বর্তমানে ইউনিয়নের ডেইঙ্গাকাটা, রসুলাবাদ, গোবিন্দপুর, শান্তিবাজার এলাকার বেশির ভাগ বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে রয়েছে।
 
সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম জানান, এ ইউনিয়নের কয়েক হাজার বসতবাড়ি ও ক্ষেতের ফসল তলিয়ে গেছে। গত তিনদিন ধরে ছিকলঘাট-কাকারা, মাঝেরপাড়ি-মানিকপুর সড়কে যানবাহন চলাচল বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বিএমচর ইউপি চেয়ারম্যান বদিউল আলম জানান, নির্মাণাধীণ কুরুইল্ল্যারকুম বেড়িবাধের অংশ ভেঙ্গে পড়ায় দ্রুত নদীর পানি ঢুকে পড়ছে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।
 
কোণাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার জানান,  গতমাসের বন্যায় ইউনিয়নের একাধিক স্থানে বেড়িবাধ ভেঙ্গে গেছে। এবারের বন্যায় বেড়িবাধের এসব ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্ট দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়। বর্তমানে এ ইউনিয়নের প্রায় ছয় হাজার পরিবারের বসতবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে।
 
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম জানান, ৪০ মেট্রিক টন চাউল সোমবার সকালে উপজেলার আঠার ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে। এদিন জেলা প্রশাসন আরো ১৫ মেট্রিক টন চাউল বন্যাদুর্গতদের জন্য তাৎক্ষণিক বরাদ্দ দিয়েছে।