নারায়ণগঞ্জে পরকীয়া প্রেমে বাধা ও ধার নেওয়া টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আমিনুল ইসলাম কালু নামের এক পোশাককর্মীকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে জবাই করে হত্যা করেছে তার স্ত্রী রিক্তা বেগম। সোমবার (৪ মার্চ) জেলার পৃথক চারটি আদালতে নিহত কালু হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত চার আসামী স্ত্রী রিক্তা বেগম (২৫), স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক রেজাউল করিম পলাশ (৩০) ও তাদের ভাড়া করা দুই খুনী মাসুম হোসেন এবং ইমরান এ হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নারায়নগঞ্জ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ূন কবির, ফাহমিদা খাতুন, মাহমুদুল মহসিন ও আফতাবুজ্জামানের পৃথক পৃথক আদালতে এই চারজনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পোশাক শ্রমিক কালু হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত চার আসামী পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী কালুকে খুনের জন্য মাসুম ও ইমরানকে ভাড়া করা হয়। শুক্রবার (১ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রাত সাড়ে আটটায় কালুকে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যার পর মৃতদেহ ফেলে দেয় মাসুম ও ইমরান।
হত্যার পরের দিন ব্রহ্মপুত্র নদীর তীর থেকে গলাকাটা অবস্থায় আমিনুল ইসলাম কালুর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় নিশ্চিত করে কালুর ভাই সামছুল হক বাদী হয়ে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে হত্যার পেছনের লোমহর্ষক রহস্য। পরে কালু হত্যাকাণ্ডে জড়িত চার আসামী স্ত্রী রিক্তা বেগম (২৫), স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক রেজাউল করিম পলাশ (৩০) ও তাদের ভাড়া করা দুই খুনী মাসুম হোসেন এবং ইমরানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ১২ বিয়ে!
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, 'জবানবন্দি গ্রহণ শেষে চার আসামীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জবানবন্দিতে কালুকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে তারা। আদালতে তারা হত্যার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দিয়েছে'।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি