খুব অন্যরকম ঈদ ছিল এবার। ভরা বর্ষায় সারাদিন বাড়িতেই কাটালাম। যেহেতু ঈদের ঠিক আগের রাতে আমি একমাস ইউরোপ ট্যুর শেষ করে দেশে ফিরি। সেহেতু ঈদের রান্না আগের রাতে করা হয়ে ওঠেনি। ঈদের দিন তাই আমার রান্না সহযোগী শাহানার সাথেই সবগুলো মেন্যু করলাম। বাইরে অবিরাম বৃষ্টি, বাড়িতে আমি, অন্যরকম আনন্দ। বিকেলের দিকে অতিথি অ্যাপায়নের সাথে আমার ঈদ কেটেছে উত্সবমুখর। ছেলেবেলার ঈদ একরকম ছিল, এখনের ঈদ অন্যরকম। আমার তো মনে হয় প্রতিবার ভিন্ন ভিন্ন রূপে ধরা দেয় ঈদ আমার কাছে। এবারে আনন্দের বহির্প্রকাশ বেশির ভাগই হলো সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বা মোবাইলের মাধ্যমে। টেকনোলজি চিরায়ত ঈদকে অনেকাংশে ভিন্নধর্মী করে তুলেছে বর্তমান সময়ে। প্রযুক্তির প্রসারে সবগুলো উত্সবেই এসেছে এখন ভিন্নতা, সেগুলোকে উপভোগই করি আমি। তবে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং বঞ্চিতদের মাঝে নিজেকে পাওয়ার জন্য ঈদ এক অতুলনীয় উপলক্ষ। এখন অনেক কাজের চাপে থাকি, ছুটি তো সেভাবে আর হয় না। বাস্তবতা হলো, সৃজনশীল পেশায় তো কোনো ছুটি নেই; তাই কর্মক্ষেত্রে সংযোগের তাড়াও নেই। শিল্পিত জীবন মানেই এক শৈল্পিক অনুভূতির ভেতর বিচরণ। তবে দীর্ঘ আনন্দের পর কাজের ভেতর অনুপ্রবেশ আনন্দের বৈকি। নতুন নতুন ভাবনার আশ্রয়ে আবার যেন নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করা। সামনের দিনের পরিকল্পনা তো সবসময়ই করা হয়। আর আমি নতুন অনেক কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে চলি। কর্ম পরিকল্পনা এতটা পরিকল্পিত না হলেও অনেক কাজ এবং সৃষ্টির মধ্যে যেন নিজেকে এবং চারপাশকে ভরিয়ে রাখতে পারি। সেটাই অনুপ্রেরণা এবং এগিয়ে চলার পাথেয়। সৃষ্টির মধ্যে বেঁচে থাকতে চাই। নতুনের সাথে এগিয়ে যাওয়ার এই যে আনন্দ, এর চেয়ে সুখের আর কী হতে পারে? জয়তু এ নতুন দিনের স্বপ্নের।