তাঁর আদর্শকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে

এবারের আগস্টে আমরা বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ও সংবাদপত্রে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিয়ে আলোচনা শুনেছি। এটি একটি অসাধারণ গ্রন্থ। এটা কেবল বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নয়, এটি বাংলাদেশের অসমাপ্ত ইতিহাস। সকল বাঙালির কর্তব্য এই গ্রন্থটি পাঠ করা। এর মধ্য দিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধুকে আরও অন্তরঙ্গভাবে চিনতে পারবো, দেখবো তিনি কী করে ধীরে ধীরে আমাদের জাতির জনক হয়ে উঠেছিলেন। এমন খোলামেলা আত্মস্মৃতি আমরা খুব কমই দেখেছি। তিনি তাঁর দুর্বলতা যেমন একদিকে অকপটে স্বীকার করতে দ্বিধা করেননি অন্যদিকে তার সংকল্পের দৃঢ়তা এবং আপোষ না করবার যে মানসিকতা তা বার বার প্রকাশ করেছেন।

 
আজ বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে তাঁর বয়স হতো ৯৫ বছর। কিন্তু আমাদের হূদয়ে আঁঁকা আছে বঙ্গবন্ধুর ৫৫ বছরের সেই ছবি, যা কোনদিন মুছে যাবে না। যতদিন একজন বাঙালি বেঁচে থাকবে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিও ততদিন জাগরুক থাকবে।
 
আজ এটা প্রমাণিত সত্য যে, ১৯৭১-এ বাংলাদেশের পরাজিত শক্তি, ১৯৭৫-এর ষড়যন্ত্রকারী ও হত্যাকারীরা সকলেই স্বীকার করেছে ৭১-এর বাংলাদেশ বিরোধীদের সাথে তাদের যোগসাজশের কথা। বিএনপি-জামায়াত সরকারের পাঁচ বছরে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গিদের ব্যাপক প্রসার হয়েছে, ২১শে আগস্টের মতো ঘটনাও ঘটেছে। সে সময়ের সরকার তো স্বীকারই করতে চায়নি যে, দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব আছে। সরকারের মদদ ছাড়া ২১শে আগস্টের মতো এমন ঘটনা ঘটা কি সম্ভব ছিল? তদন্তের নামে কত প্রহসন আমরা দেখলাম।
 
আমাদের বিবেচনায় জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে অশরীরী বঙ্গবন্ধু অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছেন ধীরে ধীরে। আগামী পাঁচ বছর পর যখন আমরা জন্মশতবার্ষিকী পালন করবো তখন তার মহিমা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে আরো ব্যাপকভাবে। আজকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পথে সকল সুখ্যাতি, সকল অর্জনে আমরা বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করি, কারণ তিনি সকল শুভ কাজের শুরু করে গিয়েছিলেন অথবা কল্পনা করেছিলেন। তাই প্রতিনিয়তই আমাদেরকে বঙ্গবন্ধুর কাছে আশ্রয় নিতে হবে, তাঁর আদর্শকে সামনে রেখে অভিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হবে।
 

[লেখক: নাট্যব্যক্তিত্ব]