সুন্দরবনে প্রতিনিয়তই বনদস্যু ও বাঘ শিকারির সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি এস.এম মনির-উজ-জামান। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের তিনি এই কথা বলেন।
গত ৯ আগস্ট সুন্দরবনে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ছয় বাঘ শিকারি নিহত এবং তিনটি বাঘের চামড়া, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ডিআইজি মনির-উজ-জামান বলেন, বিভিন্ন সময় পরিচালিত অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে অনেক দস্যু বাহিনী প্রধান ও তাদের সহযোগীরা নিহত হয়েছেন। কিন্তু তাদের অসংখ্য সদস্য এখনো রয়ে গেছে। এখনও অনেককে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ফলে তারা এখন পেশা পরিবর্তন করে বাঘ শিকারে লিপ্ত হয়েছে। এসব বনদস্যু ও বাঘ-হরিণ শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, পর্যাপ্ত লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকায় বন রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বনরক্ষীদের সক্ষমতা নেই। এমনকি বনের মধ্যে অনেক বিট অফিসের রক্ষীদের অস্ত্রের পরিবর্তে শুধুমাত্র লাঠি দিয়ে বন পাহার দিতে হয়। ফলে বনের বৈধ সম্পদ আহরণকারীদের অনেকেই এখন বাঘ শিকারে মেতে উঠেছে।
ব্রিফিংয়ে পুলিশ ও বন কর্মকর্তারা সুন্দরবনের বাঘ নিধনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাঘ শিকারি ও বনদস্যু দমনে টাস্কফোর্সের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান। বাঘ রক্ষা করতে না পারলে সুন্দরবনকেই রক্ষা করা সম্ভব হবে না- উল্লেখ করে তারা সুন্দরবনকে এখনই রক্ষা করতে হবে বলে দৃঢ়তা প্রকাশ করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. একরামুল হক, জেলা প্রশাসক মো. মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান ও সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. জহির উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ইলিয়াস ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা তিনটি বাঘের চামড়া পাচার করছে- এমর্মে খবর পেয়ে গত ৯ আগস্ট পুলিশ খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন চরামুখা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শফিকুলকে তিনটি চামড়াসহ গ্রেফতার করে। পরে তাকে নিয়ে পুলিশ সুন্দরবনের মাদারবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বনদস্যুরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে ‘বন্দুকযুদ্ধে পড়ে বাঘ শিকারি আনসার সানা, সিদ্দিক সানা, বাপ্পি হোসেন, রফিকুল ইসলাম, মজিদ গাজী ও মামুন গাজী নিহত হন।