মাছ ও বন্য প্রাণীদের নিরাপদ প্রজনন, বিচরণ ক্ষেত্র হিসেবে সরকার সুন্দরবনের কয়েকটি স্থানকে অভয়ারণ্যের আওতায় এনে এ সকল স্থানে জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে এসব স্থানে জেলে অবাধে মাছ ধরছে, মূল্যবান কাঠও কাটা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম বন বিভাগের আওতায় পুষ্পকাটি, নোটাবেঁকী, নীলকোমল, মান্দার বাড়িয়া, হলদীবুনিয়াসহ ১৯ খাল ও তত্সংলগ্ন সুন্দরবনকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। কিন্তু প্রতিদিন শত শত জেলে এসব এলাকার নদ-নদীতে নেট জাল, পাটা জাল দিয়ে মাছ ধরে। মৌসুমে কেওড়া ফল, মূল্যবান কাঠ পাচার হয়। মুন্সিগঞ্জের জেলে সুধীর মণ্ডল জানান, দুজন জেলে একটি ডিঙি নৌকা নিয়ে নিষিদ্ধ খালে মাছ ধরলে ৩/৪ হাজার টাকার মাছ ধরা যায়। এক্ষেত্রে সরকারি লোকদের দিতে হয় মাথা পিছু চার থেকে পাঁচশ’ টাকা।
কালিঞ্চি গ্রামের অরবিন্দ মণ্ডল, ৯নং সোরা গ্রামের সামছুর গাজী ও ডুমুরিয়া গ্রামের নজরুল, আমিনুর জানান, জেলেদের কাছ থেকে পাঁচশ’ টাকা ও চোরাই কাঠের নৌকা প্রতি দুই হাজার টাকা নিয়ে বনে প্রবেশের মৌখিক অনুমতি দেয়া হয়। শ্যামনগরের কয়েক হাজার জেলে আছে যারা সুন্দরবন ও তত্সংলগ্ন নদ-নদীর উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। সম্প্রতি শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন খোলপেটুয়া নদী থেকে বাগদা রেনু আহরণ করার কাজে ব্যবহূত কয়েক লাখ টাকার নেট জাল পুড়িয়ে দেয়। বনে বাঘ, জলে কুমির ও ডাকাতদের অত্যাচার উপেক্ষা করে এসব জেলে মাছ ধরে থাকে। জেলেদের সঙ্গে অনেক হরিণ শিকারী অভয়ারণ্যে প্রবেশ করে কখনো ফাঁদ পেতে আবার কখনো বন্দুক দিয়ে হরিণ শিকার করে। এলাকায় এসব হরিণের মাংস চার থেকে পাঁচশ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে থাকে।
এভাবে অভয়ারণ্যে মানুষের প্রবেশের ফলে বন উজাড় হচ্ছে, বন্যপ্রাণী, পাখ-পাখালি তাদের নিরাপদ স্থান থেকে বিতাড়িত হচ্ছে। তাছাড়া এ এলাকায় বিষ দিয়ে মাছ ধরার খবরও পাওয়া গেছে।