‘জিএসপি পুনর্বহাল না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কারণ নেই’

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্থগিত হওয়া জিএসপি (শুল্ক ও কোটামুক্ত রপ্তানি) সুবিধা পুনর্বহালের জন্য যে ১৬টি কর্মপরিকল্পনা দেয়া হয়েছিল তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি বলে মনে করছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট। তিনি বলেন, এসব কর্মপরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে জিএসপি সুবিধা ফেরত পাবে বাংলাদেশ। গতকাল বুধবার গাজীপুরে তিনটি গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শনশেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। পরিদর্শন দলে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের রাষ্ট্রদূত ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। জিএসপি পুনর্বহালে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক- সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এমন অভিযোগও খণ্ডন করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, জিএসপি পুনর্বহাল না হওয়ার পেছনে কোন রাজনৈতিক কারণ নেই। বরং রানা প্লাজা ধসের কারণে জিএসপি স্থগিত করা হয়। তিনি বলেন, রানা প্লাজার ধসের পর বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিরাপত্তা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেশকিছু অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে এখনো শ্রম আইনের বিধি চূড়ান্ত না হওয়া, শ্রমিকদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার স্বাধীনতা দেয়া, কারখানা পরিদর্শন মূল্যায়ন তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার মত বিষয়ে অগ্রগতি প্রয়োজন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রেড ইউনিয়নের কথা বললে শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে শ্রম আইনের বিধি চূড়ান্ত না হওয়ায় সবাই অন্ধকারে রয়েছে।
 
সমপ্রতি ১২২টি স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল করেছে। তবে এ তালিকায় বাংলাদেশ ও রাশিয়া নেই। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের জেরে শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা মানে বাংলাদেশের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে জিএসপি স্থগিত করে দেশটি। অবশ্য গার্মেন্টস পণ্যসহ বেশিরভাগ পণ্যই দেশটির বাজারে জিএসপি সুবিধা পায় না। পরে বাংলাদেশের শ্রম মান উন্নয়নে দেশটি ১৬টি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের শর্ত দেয়। এর প্রায় সবগুলোই বাস্তবায়ন হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে দেশটির বাণিজ্য দপ্তর ইউএসটিআরকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তবুও গত জুলাই থেকে ১২২টি দেশকে দেয়া জিএসপি সুবিধার তালিকায় বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি। এর প্রতিক্রিয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ গত বুধবার বলেন, জিএসপি না দেয়ার জন্য রাজনৈতিক কারণ ছাড়া আর কোন কারণ নেই।
 
গতকাল বার্নিকাট বলেন, রানা প্লাজার ঘটনার ১০ বছর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের উপর প্রতিবেদন সংগ্রহ করছিল। কিন্তু রানা প্লাজার ঘটনা স্থগিতের কাজটিকে ত্বরান্বিত করেছে। তিনি বলেন, এদেশের গার্মেন্টস খাতের উন্নয়নে একসাথে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
 
গাজীপুরের সালনায় ইউটা ফ্যাশন ও বাংলাবাজার এলাকায় ইপিলিয়ন গ্রুপের দুটি কারখানাসহ তিনটি কারখানা পরিদর্শন করেন ১০ কূটনীতিক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন বলেন, এসব কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সাধুবাদ জানাই। এটি অন্যান্য গার্মেন্টসের জন্য উদাহরণ হতে পারে। বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, রানা প্লাজা বাংলাদেশের গার্মেন্টসের প্রকৃত চিত্র নয়। জিএসপি বাতিলে বাংলাদেশের জন্য আর্থিকভাবে তেমন ক্ষতি না হলেও ইমেজের জন্য ক্ষতিকর। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনোয়ে পিয়েরে লাঘামে, স্পেনের রাষ্ট্রদূত এডোয়ার্ডো রোসাল, অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লুসিন্ডা বেল, ডেনমার্ক দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, ফ্রান্স দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জিন পিয়েরে পনসেট, নেদারল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মার্টিন ভ্যান হুগস্ট্রাটেন, জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স থমাস প্রিঞ্জ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।