নূর মোহাম্মদ শেখ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ

বাংলা

মো. সুজাউদ দৌলা, সহকারি অধ্যাপক

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

 

 

 

 

 

 

বীরের রক্তে স্বাধীন

এ দেশ

 

০১। প্রশ্ন : নূর মোহাম্মদ শেখের কী ইচ্ছা ছিল?

উত্তর : নূর মোহাম্মদ শেখ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান নূর মোহাম্মদ শেখ বাল্যকালে ছিলেন অনেক দুরন্ত। নাটক, গান আর থিয়েটারের প্রতি ছিল তাঁর প্রবল অনুরাগ। তাই নূর মোহাম্মদ শেখের ইচ্ছা ছিল নাটক, গান, আর থিয়েটার করার।

০২। প্রশ্ন : নূর মোহাম্মদ শেখের জীবন কীভাবে বদলে গেল?

উত্তর : নূর মোহাম্মদ শেখ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ। তিনি বাল্যকালে খুব দুরন্ত ছিলেন। গান, নাটক আর থিয়েটারের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। ইচ্ছা ছিল নাটক, গান আর থিয়েটার করার। কিন্তু হঠাত্ করে তাঁর বাবা মারা যাওয়ায় তাঁর জীবন বদলে গেল।

০৩। প্রশ্ন : নূর মোহাম্মদ শেখ কীভাবে শহিদ হলেন?

উত্তর : নূর মোহাম্মদ শেখ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ। পাকিস্তানি সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে তিনি শহিদ হয়েছেন।

যেভাবে শহিদ হয়েছেন: ১৯৭১ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি গ্রামে টহল দিচ্ছিলেন পাঁচ মুক্তিযোদ্ধা। এদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন নূর মোহাম্মদ শেখ। পাশেই পাকিস্তানি সৈন্যরা। যে কোনোভাবে মুক্তিযোদ্ধারের খবর পেয়ে যায়। তিন দিক থেকে শত্রুরা মুক্তিযোদ্ধাদের ঘিরে ফেলে । এমন সময় আহত হলেন সাহসী যোদ্ধা নান্নু মিয়া। নূর মোহাম্মদ বার বার স্থান বদল করে যুদ্ধ করছিলেন। এমন সময় শত্রুদের একটি গোলা এসে তাঁর পায়ে লাগে। মৃত্যু আসন্ন বুঝতে পেরে আরেক যোদ্ধা মোস্তফা কামালকে নির্দেশ দিলেন নান্নু মিয়াকে নিয়ে পিছু হটতে। মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটলো, নূর মোহাম্মদ শেখ বীরের মতো একাই যুুদ্ধ করতে করতে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন।

নূর মোহাম্মদ শেখ পাকিস্তানি সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করে শহিদ হয়েছেন। তিনি অমর।

০৪। প্রশ্ন : সিপাহি মুন্সী আবদুর রউফের যুদ্ধের ঘটনাটা লেখ।

উত্তর : অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি গৌরবময় স্বাধীনতা। এদের মধ্যে সাতজন হলো বীরশ্রেষ্ঠ। মুন্সী আবদুর রউফ ছিলেন বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে অন্যতম।

মুন্সী আবদুর রউফ ছিলেন ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিক। যুদ্ধ শুরু হলে অন্যান্য বাঙালি সৈনিকদের মতো তিনিও যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৯৭১ সালের ৮ই এপ্রিল শত্রুদের মোকাবেলা করতে আবদুর রউফ বুড়িঘাট এলাকার চিংড়িখালের দুপাশে অবস্থান নেন।  পাকিস্তানি সৈন্যরা সাতটি স্পিডবোট আর দুটি মোটর লঞ্চ নিয়ে এগিয়ে আসে। যুদ্ধ শুরু হলে আবদুর রউফের অসামান্য কৌশলে অন্য মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে যান। একটা মেশিনগান হাতে নিয়ে তিনি একাই যুদ্ধ করতে থাকেন। একে একে সাতটি স্পিডবোট ডুবিয়ে দেন পাকিস্তানিদের। এমন সময় একটি গোলা এসে পড়ে তাঁর ওপর। শহিদ হন মুন্সী আবদুর রউফ।

আমাদের অর্জিত স্বাধীনতায় মুন্সী আবদুর রউফের অবদান অবিস্মরণীয়।