আল জাজিরা
ন্যাটোর কমান্ডার জেনারেল স্কেপোরত্তি বলেছেন রাশিয়া এখনও ইউক্রেনের বিদ্রোহীদের অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। কখনও কখনও রুশ সেনারা বিদ্রোহীদের পক্ষে লড়ছে। ইউরোপে ন্যাটো বাহিনীর প্রধান জেনারেল কুৃর্তিস স্কাপারোত্তি বলেন, ইউক্রেনের পূর্বে এবং কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী ভূমিকার কারণে উইক্রেনের নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা বাড়াবে ন্যাটো।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইউক্রেনকে জ্যাভেলিন অ্যান্টি ট্যাংক সিস্টেম সরবরাহ করেছে। স্লাইপার সিস্টেম দিয়ে আরো শক্তিশালী করা যায় তাদের। ন্যাটো কমান্ডার বলেন, কৃষ্ণসাগরে নৌশক্তি বাড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। গতবছর কৃষ্ণসাগরের কাছে ইউক্রেনেরে তিনটি জাহাজ আটক করে রাশিয়া। ২০১৫ সালে ইউক্রেন সংকট নিরসনে রাশিয়ার সাথে চুক্তি সত্বেও রাশিয়া বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে।
ইউক্রেনের মস্কোপন্থি প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইায়নুকোভিচ ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থি প্রতিবাদ বিক্ষোভের জেরে পদত্যাগে বাধ্য হন। এর কদিন পরই ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরীয় উপদ্বীপ ক্রিমিয়ায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর দখল করে নেয় রুশপন্থি বন্দুকধারীরা। রাশিয়া আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের রশি টানাটানির প্রেক্ষাপটে রুশভাষী পূর্ব ইউক্রেনে জ্বলে ওঠে বিদ্রোহের আগুন। এপ্রিলে রুশপন্থি বিদ্রোহী আর সরকারি বাহিনীর মধ্যে বেঁধে যায় পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ। কয়েকমাস পর একটি যুদ্ধবিরতি হলেও তা বিভিন্ন মাত্রায় প্রায়ই ভঙ্গ হচ্ছে। বিদ্রোহীদের সহায়তায় ইউক্রেনের পূর্বাংশে রুশ সেনাদের প্রবেশ বিষয়টিকে জটিল ও বিস্ফোরক করে তোলে। তবে রাশিয়া বরাবরই তার সেনাদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
ইউক্রেন সংকট নতুন করে ইতিহাসের ধূসর পাতা থেকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে ক্রিমিয়াকে। মধ্য ১৮ শতকের এক যুদ্ধের কারণে খ্যাত ক্রিমিয়া হঠাত্ করেই আবার বিশ্ব আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
১৭৮৩ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত ক্রিমিয়া রাশিয়ারই অংশ ছিল। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট নিকিতা খ্রুশ্চভ রুশ ভাষাভাষী ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের কাছে ছেড়ে দিয়েছিলেন ‘উপহার’ হিসেবে। ইউক্রেনের রুশপন্থি প্রেসিডেন্ট ইযানুকোভিচ ক্ষমতা ছেড়ে রাশিযায় পালিয়ে যাওয়ার কিছুদিন পরই ক্রিমিয়া দখলে নেয় রুশ সেনারা।