মোবাইল ফোন প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব

ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার ও তাজনিম আরা খানম

  মোবাইল ফোন আসক্ত যেকোনো ব্যক্তি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে। ২০১৪ সালে এক জরিপের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ক্যান্সারের কারণ হতে পারে মোবাইল ফোন।  মোবাইল ফোনের অ্যান্টিনা থেকে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি নিঃসরণ হয়, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। যুক্তরাজ্যের চক্ষু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মুঠোফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে দৃষ্টির সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে কানের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। উচ্চ শব্দে হেডফোন ব্যবহার করে গান শুনলে কানের কোষগুলোর ওপর প্রভাব পড়ে এবং মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। এছাড়াও আমেরিকায় দশ বছরব্যাপী ইঁদুরের উপর রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশন (RFR)-এর প্রভাব নিয়ে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, এটা ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগের কারণ হতে পারে।

প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে আমরা বর্তমানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব যুগে বাস করছি। এমনকি সম্প্রতি ফাইভ-জি’র যুগে প্রবেশ করছি। এইসব তরঙ্গদৈর্ঘ্য মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে যার খারাপ প্রভাব পড়ছে আমাদের পরিবেশে। বর্তমানে ২জি, ৩জি ও ৪জি নেটওয়ার্কে ৭৯০ থেকে ২.৬ এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সিগন্যাল প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতে ৫জি নেটওয়ার্কে আরও উচ্চ মাত্রার তরঙ্গদৈর্ঘ্য ব্যবহার করতে হবে। চলতি বছরের শেষে ৩.৬ এবং এর পরে ৬ থেকে ১০০ মেগাহার্স-এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু ৬ মেগাহার্জ-এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য মাত্রা পেরিয়ে গেলে তরঙ্গ এত সংকুচিত হয়ে যায় যে, তার প্রসারের মানের অবনতি ঘটে। বাড়িঘর, গাছপালা আরও বড় বাধা হয়ে ওঠে। তখন বাধ্য হয়ে এন্টেনার বিকিরণ বাড়াতে হবে। সম্প্রতি  নেদারল্যান্ডসের হেগে ফাইভ-জি পরীক্ষা চালাকালীন শতশত পাখি মারা পড়েছে। একইভাবে  ডাচ রেল স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভ-জি পরিষেবা চালু হয়েছে। যার ফাইভ-জি  পরিষেবার তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৭.৪০ গিগাহার্জ, যা পাখি বা অন্যান্য পশুর জন্য ক্ষতিকারক। গতবছর গ্রোনিনজেনসের লোপারসাম এবং সুইজারল্যান্ডে ফাইভ-জি পরিষেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পর বেশ কিছু গরুর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। এক্ষেত্রে ৫এ ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু মঙ্গলজনক হবে তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।

তাই নতুন করে প্রযুক্তি ব্যবহার শুরুর পূর্বে আমাদের প্রয়োজন এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানা। মোবাইল ফোনের ব্যবহারের ভয়াবহ দিক থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমাদের মোবাইল ফোনকে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে সে জন্য তাদের মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে জানাতে হবে। বাচ্চাদেরকে এই ক্ষতিকর রেডিয়েশন থেকে রক্ষার জন্য মোবাইল ফোনকে বাচ্চাদের হাতের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।

n লেখকদ্বয় স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক