ক্ষতি হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটেরই

বাজে আম্পায়ারিং নিয়ে সেমিনার

স্পোর্টস রিপোর্টার

দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় পাইপলাইনই হচ্ছে ঢাকা ক্লাব ক্রিকেট। যদি এটা বিপর্যয়ে পড়ে, তাহলে ক্ষতিটা বেশি হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটেরই।

ঢাকার ক্রিকেটের এই সংকট নিয়ে বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন (বিএসজেএ) আয়োজিত ‘ঢাকার ক্রিকেটে পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিং: বাস্তবতা ও সমাধান’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। গতকাল বিওএ’র ডাচ বাংলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই সেমিনার।

এই সেমিনারে বলা হয়, কিছু আত্মঘাতী পদক্ষেপ, বিসিবির ভোট ও কাউন্সিলরশিপের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তারের থাবায় ঢাকায় ক্রিকেটের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ লিগ এখন সংকটাপন্ন। বিসিবির পরিচালক ও সিসিডিএম চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ অবশ্য আম্পায়ারিং নিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথাই তুলে ধরেন।

কাজী ইনাম আহমেদ বলেন, ‘আমরা ক্রিকেট বোর্ডের আম্পায়ার্স কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে আম্পায়ার বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। আশা করছি, ভবিষ্যতে আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান এবং সেক্রেটারির সঙ্গে সমন্বয় করে সিসিডিএম কাজ করতে পারবে।’

এবারের প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচগুলো লাইভ স্ট্রিমিং করারও চিন্তা আছে বলে জানান সিসিডিএম চেয়ারম্যান। তার মতে এমনটা হলে আম্পায়াররা চাপে থাকবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক কিছুই চেষ্টা করছি। কোনো বিতর্ক ছাড়া প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি শেষ করেছি। প্রিমিয়ার লিগের ফিক্সচার করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট ক্লাব নিয়ে অনেক অভিযোগ। এবার ফিক্সচারে দেখেন তাদের প্রথম তিনটি খেলার একটিও বিকেএসপিতে নেই।’

সেমিনারে বিষয়টিতে বিএসজেএ’র পর্যবেক্ষণ পড়ে শোনান সংগঠনের সদস্য আরিফুল ইসলাম রনি। এতে বলা হয়, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটের পাতানো ম্যাচ ও পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ক্ষত। ব্যাট-বলের কীর্তি নয়, গুটি কয়েক ক্লাব কর্মকর্তার পেশিশক্তিই এখানে আসল।’

ইয়াং পেগাসাসের কর্মকর্তা সৈয়দ আলী আসাফ পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘আগে ম্যাচের আগের দিন খেলোয়াড়েরা চিন্তা করত প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা নিয়ে, কিভাবে তাদের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ম্যাচ জিততে হবে, সে কৌশল হতো। কিন্তু এখন ম্যাচের আগে খেলোয়াড়রা চিন্তা করে, পরদিন মাঠের আম্পায়ার কারা থাকবেন।’

কলাবাগানের ক্রিকেট সেক্রেটারি ও বিসিবির কাউন্সিলর রিয়াজ আহমেদ বাবুর অভিযোগ, ম্যাচ শেষে অধিনায়ক কিংবা ম্যানেজারের যে রিপোর্ট থাকে তা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সিসিডিএম পর্যন্ত পৌঁছায় না। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য ক্লাব অফিসিয়ালদেরও মানসিকতা পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সিনিয়র ক্রীড়া সংবাদিক সাইদুজ্জামান এ জন্য কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করে আম্পায়ারদের আর্থিক উন্নতি এবং পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বরেণ্য ক্রিকেট কোচ ও বিএসজেএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘যদি ঢাকার ক্লাবগুলো বিসিবির কাউন্সিলরশিপ পায়, তাহলে কেন চট্টগ্রামের ক্লাবগুলো বিসিবির কাউন্সিলরশিপ পাবে না।’ তার আপত্তি, কেন বিসিবি শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হবে?

বিসিবি’র সাবেক পরিচালক ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশারাফ হোসেন লিপু তার বক্তব্যে বলেন, ‘আম্পায়ারদের ভুল আমাদের সময় ছিল ‘হিউম্যান এরর’। কিন্তু এখন সেটা হয়ে গেছে ইচ্ছাকৃত।’

সমাপনী বক্তব্যে বিএসজেএর সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু বলেন,‘দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় পাইপলাইনই হচ্ছে- ঢাকা লিগ। যদি এটা বিপর্যয়ে পড়ে যায়, ক্ষতিটা বাংলাদেশের ক্রিকেটেরই বেশি হবে।’

বিএসজেএ-এর সহ-সভাপতি তারেক মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মোতাহের হোসেন মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান আল মুঘনি। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পৃষ্ঠপোষক ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম।